সংবাদদাতা, বর্ধমান: বর্ধমান শহরের নবাবহাট মোড় এলাকায় নার্সিংহোমে অস্ত্রোপচারের পর চার বছরের শিশুসন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় ধৃত কৌশিক দত্তকে ফের হেপাজতে নিল পুলিশ। চারদিনের পুলিশি হেপাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার ধৃতকে ফের বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতকে চারদিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন সিজেএম।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা থানার রামজীবনপুরের বাসিন্দা জয়ন্ত রায় ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে কেস রুজু করেছে বর্ধমান থানা। অভিযোগে জয়ন্ত জানিয়েছেন, গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি তাঁর চার বছরের ছেলে অরণ্যকে নবাবহাট মোড় এলাকার নার্সিংহোমটিতে চিকিৎসার জন্য ভরতি করান। সেখানে তার ছোটো অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের আগে অপারেশনের জন্য শিশুটিকে অজ্ঞান করার প্রয়োজন নেই বলে নার্সিংহোম থেকে জানানো হয়। অস্ত্রোপচারের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু, অভিভাবকদের অনুমতি ছাড়াই অস্ত্রোপচারের আগে শিশুটিকে অজ্ঞান করা হয়। তার আগে কোনো টেস্ট শিশুটির করা হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘক্ষণ কেটে গেলেও শিশুটির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নার্সিংহোম থেকে পরিবারের লোকজনকে কিছুই জানানো হয়নি। উলটে শিশুটির শারীরিক অবস্থার কথা জানতে গেলে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে, ধাক্কাধাক্কি করে। গালিগালাজও করে বলে অভিযোগ। এসব চলাকালীন নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ তাঁকে দিয়ে কিছু কাগজপত্রে সই করিয়ে নেয়। পরে ছেলেকে বেডে দেওয়া আছে বলে নার্সিংহোম থেকে জানানো হয়। বেডের কাছে গিয়ে দেখা যায়, ছেলের সারা শরীর নীল হয়ে গিয়েছে। কোনো সাড়া–শব্দ দিচ্ছে না। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে এবং চিকিৎসককে বলার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নার্সিংহোম এবং চিকিৎসকদের গাফিলতি ও ভুল চিকিৎসার কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি অভিযোগে জানিয়েছেন। হেপাজতে থাকাকালীন ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। অস্ত্রোপচার করা শেখ সাইদুল হকের সম্পের্ক বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তার ডাক্তারি শংসাপত্র নিয়ে বেশ কিছু সন্দেহজনক তথ্য হাতে এসেছে পুলিশের।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, শিশুটির অপারেশনের জন্য প্রথমে অন্য এক চিকিৎসককে ঠিক করা হয়। কিন্তু, একেবারে শেষ মুহূর্তে লাভের কথা মাথায় রেখে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ শেখ সাইদুল হককে ডেকে পাঠায়। অ্যানাসথেটিস্ট হিসাবে ছিলেন বনোজকুমার দে। নার্সিংহোমটিতে ভুয়ো চিকিৎসককে দিয়ে অস্ত্রোপচার আগেও হয়েছে বলে জেরায় কৌশিক পুলিশকে জানিয়েছে। নার্সিংহোমের বেআইনি এই কার্যকলাপে আরও কয়েকজন জড়িত বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।



