প্রেমিক ও তাঁর পরিবারকে বিবস্ত্র করে ঘোরানোর ‘শাস্তি’ সরশুনায় ৩ অভিযুক্তকে খালি গায়ে, খালি পায়ে হাঁটিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিবস্ত্র করে প্রেমিক ও তাঁর পরিবারকে রাস্তায় ঘোরানোর শাস্তি হিসেবে তিন অভিযুক্তকে খালি গায়ে-খালি পায়ে ওই এলাকা ঘোরালো পুলিশ। পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্যই তাদের ওইভাবে হাঁটানো হচ্ছিল। এই নিয়ে সরব হয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। এভাবে কাউকে রাস্তা দিয়ে হাঁটানো যায় কি না, তাই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। তবে রবিবার রাতে প্রেমিক, তাঁর বাবা ও এক বন্ধুকে যেভাবে বিবস্ত্র করে রাস্তায় ঘোরানো হয়েছিল, তা নিয়ে অবশ্য কোনো প্রতিক্রিয়া নেই ওই সমস্ত সংগঠনের। এদিকে ঘটনার দিন প্রেমিক  ও তাঁর বাবার মাথায় রিভলভার ধরে ভয় দেখানো  ও মারধরের অভিযোগে শংকর সিং নামে এক অভিযুক্তকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে সরশুনা থানা।

Advertisement

প্রেমিকাকে চুম্বন করার অপরাধে তরুণ প্রেমিক রোহিত, তাঁর বাবা রতন মল্লিক ও বন্ধুকে নগ্ন করে রাস্তায় হঁটানোর অভিযোগ ওঠে প্রেমিকার বাবা, মা, মামার বিরুদ্ধে। তাঁদের রিভলভার দিয়ে ভয় দেখানো ও মারধর করা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে। ছেলেকে গুলি করে মারা সহ  তিনটি শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছিল প্রেমিকের বাবাকে। বাধ্য হয়েই শেষ এই শর্ত মেনে নেন তাঁরা। ঘটনার পরই নাবালিকা প্রেমিকার বাবা প্রদীপ সরকার, মামা রাহুল বর্মন ও মা রিঙ্কু সরকারকে গ্রেপ্তার করে থানা। তাদের জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার সময় রাহুল প্রথম রিভলভার দিয়ে ভয় দেখায় তিনজনকে। এরপর সে মারধর শুরু করে। তখন তাঁদের মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে রেখেছিল শংকর সিং। সেও মারধর করে। তাকে ডেকে পাঠিয়েছিল প্রেমিকার বাবা প্রদীপ। এরপরই সোমবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারী অফিসাররা সিদ্ধান্ত নেন, তিন অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করাবেন। সেইমতো তিনজনকে নিয়ে মঙ্গলবার সকাল দশটা নাগাদ এলাকায় আসে পুলিশ। তাদের পরণে ছিল হাফপ্যান্ট। পায়ে কোনও চটি-জুতো ছিল না। খালি গায়ে তিনজনকেই আনা হয়েছিল। তাদের দেখতে ভিড় জমান স্থানীয় মানুষজন। অনেকেই ভিডিয়ো তোলেন তাদের। পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, প্রেমিক ও তাঁর পরিবারকে যে এলাকায় বিবস্ত্র করে ঘোরানো হয়, সেখানে তিন অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা ঘটনাস্থল চিহ্নিত করে। প্রেমিকার মামা রাহুল মাঠের সামনে গিয়ে অভিনয় করে দেখায় কীভাবে তরুণ প্রেমিককে তুলে আনা হয়েছিল। প্রায় আধঘণ্টা পুনর্নিমাণ পর্ব চলে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত রাহুল বেআইনি অস্ত্রের কারবার করে। বিভিন্ন জায়গা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসে নিজের বাড়িতে রাখে। এখান থেকে দুষ্কৃতীরা কিনে নিয়ে যায়। সেই সুবাদে দুষ্কৃতীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্রের বেআইনি কারবার চালানোয় তার কাছে অস্ত্র ছিল। এদিকে ধৃত শংকর সিংকে মঙ্গলবার আলিপুর আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী সাজ্জাদ আলি খান বলেন,অভিযুক্তকে জেরা করে অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। সওয়াল শেষে তাকে পুলিশি হেফাজতে পাঠায় আদালত।