Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বারাসতে বৃদ্ধের দেহ ‘আগলে’ স্ত্রী ও ছেলে! অবশেষে উদ্ধার করল পুলিস

এক বৃদ্ধের দেহ আগলে বসেছিলেন তাঁর স্ত্রী ও ছেলে। এদিকে, দেহে পচন ধরায় দুর্গন্ধ বেরতে শুরু করে। তার সূত্র ধরেই জানাজানি হয় বিষয়টি।

বারাসতে বৃদ্ধের দেহ ‘আগলে’ স্ত্রী ও ছেলে! অবশেষে উদ্ধার করল পুলিস
  • ২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এক বৃদ্ধের দেহ আগলে বসেছিলেন তাঁর স্ত্রী ও ছেলে। এদিকে, দেহে পচন ধরায় দুর্গন্ধ বেরতে শুরু করে। তার সূত্র ধরেই জানাজানি হয় বিষয়টি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বারাসতের ১১ নম্বর ওয়ার্ডে বৃদ্ধের পচাগলা দেহ উদ্ধারকে ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়। মৃতের নাম ফণীভূষণ ঘোষ (৮০)। পুলিস দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। বয়সজনিত কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে বারাসত থানার পুলিস।

Advertisement

স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসতের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলায় বাড়ি ফণীভূষণ ঘোষের। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাঁর স্ত্রী ও ছেলে মানসিক অবসাদে ভুগছেন। মঙ্গলবার ওই দম্পতির ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হতেই স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ওই বাড়িতে আসে বারাসত থানার পুলিস। তাঁরা ঘরে ঢুকে দেখেন, বৃদ্ধের দেহ একপ্রকার ‘আগলে’ বসে রয়েছেন অসুস্থ স্ত্রী ও ছেলে! কেউই কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। চোখ দিয়ে অঝোরে জল পড়ছে। বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর পেয়ে আমতলার বাড়িতে আসেন আত্মীয়রা। ঘোষ পরিবারের আত্মীয়া স্বপ্না বিশ্বাস বলেন, জামাইবাবু যে মারা গিয়েছেন, এদিনই আমরা তা জানতে পারি। দীর্ঘদিন ধরেই দিদি-জামাইবাবু অসুস্থ। বয়সজনিত সমস্যার কারণেই জামাইবাবুর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা। প্রতিবেশী সিন্টু ঘোষ বলেন, দীর্ঘদিন ওই দম্পতির ছেলে মানসিক রোগের শিকার। এদিন ওই ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় আমরা এমনটাই আন্দাজ করেছিলাম। মনে করা হচ্ছে, অনেক আগেই মৃত্যু হয়েছে ফণীবাবুর। পুলিস জানিয়েছে, বৃদ্ধের দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে পুলিস। প্রাথমিকভাবে পুলিসের অনুমান, সম্ভবত একদিন আগেই মৃত্যু হয়েছে ফণীভূষণের। ছেলে ও স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় তাঁরা কাউকে কিছু বলতে পারেননি। কেবল দেহ আগলে বসেছিলেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ