নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: শ্রীরামপুরের একটি আবাসন ও সংলগ্ন এলাকায় ডেঙ্গু বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুরসভা থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের সেখানে কাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে বুধবার পুলিস, স্বাস্থ্যকর্মী ও পতঙ্গবিশারদদের বিরাট একটি দল নিয়ে অভিযান চালাল শ্রীরামপুর পুরসভা। শতাধিক কর্মীর অভিযান ঘিরে হইচই পড়ে যায় শ্রীরামপুরের ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডে। তবে কোনও কড়া পদক্ষেপ পুরসভা নেয়নি। পুরকর্তাদের দাবি, বিরাট আকারের বেসরকারি আবাসন অবশেষে সহযোগিতা করেছে। আবাসন ও পুরকর্মীদের নিয়ে তৈরি হয়েছে একটি সমন্বয় কমিটি। অডিটোরিয়ামে বাসিন্দাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনাও হয়েছে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বঙ্গলক্ষ্মী কটন মিলের জমিতে আবাসন তৈরি হয়েছে। মাহেশে জিটি রোডের কাছে প্রায় তিন একর জমিতে ছড়িয়ে আছে আবাসনটি। সেখানে অভিজাত মানুষদের বাস। সম্প্রতি শ্রীরামপুরে ৭৫ জন ডেঙ্গু রোগীর সন্ধান মিলেছে। তার মধ্যে ষাটের বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই আবাসনের সঙ্গে যোগ। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে শ্রীরামপুরে ১২ জনের ডেঙ্গু ধরা পড়ে। তার সবগুলি ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের। যে কারণে এই ওয়ার্ড ও সংলগ্ন এলাকাকে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ বিশেষ এলাকা বলে চিহ্নিত করেছে। পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সদস্য সন্তোষ সিং(পাপ্পু) বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই আবাসনের বাসিন্দারা অসহযোগিতা করছিলেন। এদিন বিরাট পুলিস বাহিনী নিয়ে আমরা অভিযান করেছি। আবাসনটি নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তারাও উদ্বিগ্ন। সুডা পতঙ্গবিদদের বিশেষ দল পাঠিয়েছিল এদিন। শেষপর্যন্ত সমন্বয়ের পথ খুলেছে। কতটা কাজ হচ্ছে আমরা তা নজরে রাখব। নইলে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট আইনে মামলা করা হবে। সদ্য জেলা স্বাস্থ্যবিভাগের ডেঙ্গু নিয়ে ৩৪ সপ্তাহের রিপোর্ট সামনে এসেছে। দেখা গিয়েছে, ২০২৩ ও ’২৪ সালের তুলনায় ডেঙ্গু এবছর অনেক কম। কিন্তু আতঙ্ক ছড়িয়েছে অভিজাত আবাসন। মূলত ফ্ল্যাটের ঘরে, বারান্দায়, ছাদের বাগানে রাখা ফুলের টব থেকে ডেঙ্গুর মশার বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র