Bartaman Logo
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিল্পাঞ্চলের ‘জামতাড়া’ মুচিপাড়ায় পুলিশি অভিযান, জালে অপরাধীরা

সকাল হতেই কুলটি থানার নিয়ামতপুরের মুচিপাড়ার পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ছ’টি থানা ও ফাঁড়ির বিশাল বাহিনীর পাশাপাশি হাজির কমব্যাক্ট ফোর্স, পুলিশ লাইনের পুলিশ।

শিল্পাঞ্চলের ‘জামতাড়া’ মুচিপাড়ায় পুলিশি অভিযান, জালে অপরাধীরা
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: সকাল হতেই কুলটি থানার নিয়ামতপুরের মুচিপাড়ার পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ছ’টি থানা ও ফাঁড়ির বিশাল বাহিনীর পাশাপাশি হাজির কমব্যাক্ট ফোর্স, পুলিশ লাইনের পুলিশ। রীতিমতো সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কায়দাতেই মুচিপাড়ার বাড়ি বাড়ি অভিযান চালালো পুলিশ। বেশিরভাগ বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে হাইস্পিড ইন্টারনেটের যন্ত্রাংশ, দামী ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল। সঙ্গে প্রচুর সংখ্যাক এটিএম কার্ড। ব্যাঙ্কের চেকবুক পাশবুক। সব সামগ্রী বা‌঩জেয়াপ্ত করে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বহু বাসিন্দাকে আটক করে পুলিশ ভ্যানে তোলে পুলিশ। 

Advertisement

পুলিশের দাবি, এই এলাকাটি হয়ে উঠেছিল শিল্পাঞ্চলের ‘জামতাড়া’। এখান থেকেই দেশজুড়ে সাইবার প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা লুট করা হচ্ছিল। প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন রা঩জ্যের পুলিশ হদিস পাচ্ছিল অপরাধের মূল মাথা নিয়ামতপুরের মুচিপাড়ায় রয়েছে। শিল্পাঞ্চলের বদনাম ঘোচাতে এবার উঠে পড়ে নামল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। অত্যন্ত গোপনে অভিযানের পরিকল্পনা হচ্ছিল। অভিযানের সম্পূর্ণ পরিকল্পান দেখে চূড়ান্ত অমুমোদন দিতেই রবিবার রাতে নিয়ামতপুর ফাঁড়িতে হাজির হন খোদ পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার। তারপরই শুরু হয় অভিযান। জানা গিয়েছে, সাইবার চাঁইদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। 
পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার বলেন, ‘এই এলাকার ২৮ জন বড় সাইবার প্রতারককে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাদের টিম পুরো দেশজুড়ে সাইবার প্রতারণা করছে। কোটি কোটি টাকা লুট করেছে। আমরা অভিযান শুরু করেছি। সাইবার প্রতারণায় ব্যবহার হওয়া বিপুল সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রতিটি অপরাধীকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে।’ 
নিয়ামতপুর মুচিপাড়া বা হরিজন পাড়া যে সাইবার প্রতারকদের ঘাঁটি হয়ে উঠেছে সেই খবর ‘বর্তমান’ পত্রিকায় বারবার প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশ মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে তারা পালিয়েছে। ধারাবাহিক অভিযান না হওয়ার সুযোগে তাদের সাহস বেড়েই চলেছিল। আগে দেশের নানা প্রান্তে সাইবার প্রতারণা হলেই যেভাবে জামতাড়ার যোগ পাওয়া যেত। এখন অনেকটা সেই ভাবেই বিভিন্ন রা঩জ্যের সাইবার প্রতারণার সঙ্গে নিয়ামতপুরের নাম জড়িয়ে গিয়েছে। প্রতি নিয়তই সাইবার অপরাধীদের ধরতে ভিন রাজ্যের পুলিশ এখানে হানা দেয়। এবার আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ নিজে থেকেই বৃহৎ অভিযানে নামল। বিশাল বাহিনী নিয়ে সন্দেহভাজনদের দরজার কাছে যেতেই দেখা যায়, বাড়িতে তালা বা ভেতর থেকে বন্ধ। দরজা ধাক্কা দিয়ে, হেঁকে ডেকে খুলে পুলিশের চক্ষুচড়কগাছ। বিলাসবহুল গৃহসজ্জা। প্রতি বাড়ির পিছন দিকেই রয়েছে চিলে কোঠা বা ঘরের মধ্যে গোপন ঘর। সেই ঘরের একটি ছোট্ট অংশে দরজা লাগানো। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মূল মাথারা সেই দরজা খুলে পালিয়ে যায়। যদিও তাঁদের বহু আত্মীয় ও সাগরেদ ধরা পড়ে গিয়েছে। যে সব বাড়িতে অভিযান চলেছে, সেখানে গিয়ে দেখা গিয়েছে বাড়ির চারিপাশে সিসি ক্যা঩মেরা বসানো। প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে হাইস্পিড ইন্টারনেট। যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কম্পিউটার, ল্যাপটপ। সেগুলি খতিয়ে দেখে পুলিশ সাইবার প্রতারণার প্রমাণ পেয়েছে। ওইসব যন্ত্রাংশ বা‌঩জেয়াপ্ত করা হয়েছে। বেশ কিছু দামী বাইকও পুলিশ আটক করে নিয়ে গিয়েছে। যেগুলি প্রতারণার টাকা থেকে কেনা বলে বলে পুলিশ জানিয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ