Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ট্রাফিক সামলাতে আরও ‘প্রশিক্ষণ’ প্রয়োজন পুলিস কর্মীদের: হাইকোর্ট

রাস্তায় বিনা কারণে কেস দেওয়া, লাইসেন্স সিজ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অভব্য আচরণ! কলকাতা সহ গোটা রাজ্যেই ট্রাফিক পুলিসের বিরুদ্ধে এমন ভূরিভূরি অভিযোগ রয়েছে।

ট্রাফিক সামলাতে আরও ‘প্রশিক্ষণ’ প্রয়োজন পুলিস কর্মীদের: হাইকোর্ট
  • ২৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাস্তায় বিনা কারণে কেস দেওয়া, লাইসেন্স সিজ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অভব্য আচরণ! কলকাতা সহ গোটা রাজ্যেই ট্রাফিক পুলিসের বিরুদ্ধে এমন ভূরিভূরি অভিযোগ রয়েছে। এই সংক্রান্ত একটি মামলার সূত্রে এবার যান নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিসের প্রশিক্ষণ দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুধু তাই নয়, গাড়ির লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করার সময় বা এ সংক্রান্ত যাবতীয় বিধি আরোপের ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘন করলে কর্তব্যরত পুলিসের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সুপারিশও করেছে হাইকোর্ট। আইন মেনে কীভাবে কাজ করতে হবে বা সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, এসবেরই প্রশিক্ষণ প্রয়োজন বলে মনে করছে আদালত। 

Advertisement

রাস্তায় ট্রাফিক পুলিসের হাতে হেনস্তার অভিযোগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শুভ্রাংশু পান্ডা নামে এক আইনজীবী। গত বছরের মার্চ মাসে কলকাতার এ জে সি বোস রোড ও খিদিরপুর রোডের সংযোগস্থলে ওই আইনজীবীর গাড়ি আটকান এক ট্রাফিক সার্জেন্ট। অভিযোগ, দ্বিতীয় হুগলি সেতু দিয়ে যাওয়ার সময় ওই আইনজীবীর কাছে এক হাজার টাকা দাবি করেন অভিযুক্ত ট্রাফিক সার্জেন্ট পলাশ দাস। টাকা দিতে অস্বীকার করায় আইনজীবীর ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করার হুমকি দেন তিনি। আইনজীবী জানান, এভাবে টাকা নেওয়া যায় না। ওই ট্রাফিক সার্জেন্টকে হাইকোর্টের একটি পুরনো নির্দেশের কপিও দেখানো হয়। অভিযোগ, তখন ওই পুলিসকর্মী পাল্টা দাবি করেন, তিনি হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দারের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁকে আইন শেখানোর দরকার নেই। দীর্ঘ বচসার পর ওই ট্রাফিক সার্জেন্ট আইনজীবীর লাইসেন্স কেড়ে নেন বলে অভিযোগ। তারপরই  হাইকার্টের দ্বারস্থ হন শুভ্রাংশু। 
দীর্ঘ শুনানির পর বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত পলাশ দাসকে সতর্ক করেছেন বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়। রায়ে তিনি বলেছেন, যেহেতু সিজ করা লাইসেন্স ফেরত দেওয়া হয়েছে, তাই ওই পুলিসকর্মীর বিরুদ্ধে কোনও বিভাগীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দিচ্ছে না আদালত। তাঁকে আরও দায়িত্বশীল হতে সতর্ক করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতের কথা ভেবে গোটা রাজ্যে ট্রাফিক পুলিসের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন বলে মনে করে আদালত। বিচারপতি চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করা ও ট্রাফিক বিধি কঠোরভাবে কার্যকরের জন্য রাজ্য ও কলকাতা পুলিসকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। এর পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিস যাতে নাগরিকের সঙ্গে ভদ্র আচরণ করে, দায়িত্বশীল ও পেশাদার হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। আদালতের রায়ের এই কপি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিসের ডিজি ও কলকাতা পুলিস কমিশনার এবং ডিসি ট্রাফিককে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি চট্টোপাধ্যায়।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ