সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ডিআইজির জঙ্গিপুর পরিদর্শনের মধ্যেই ওয়াকফ ইস্যুতে বুধবার সূতির আহিরণ হল্ট এলাকা উত্তাল হয়ে উঠল। পুলিসের শীর্ষকর্তারা যখন রঘুনাথগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন ঠিক তখনই দফায় দফায় বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হল্ট মোড় সংলগ্ন জাতীয় সড়ক এলাকা। ১২নম্বর জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করা হয়। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে বিক্ষোভ-অবরোধ চলে। জাতীয় সড়ক কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বিক্ষোকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিস লাঠিচার্জ করে। তারপরই জনতার সঙ্গে কার্যত খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়। পুলিসকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টিও চলে। বাধ্য হয়ে পুলিস কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন ফরাক্কার এসডিপিও আমিনুল ইসলাম। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় পুলিস।
এসডিপিও বলেন, জাতীয় সড়ক অবরোধ ও এলাকায় বিশৃঙ্খলা পাকানোর অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জাতীয় সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে আহিরণ হল্ট মোড়ে কয়েকশো বাসিন্দা জমায়েত হন। জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে বিক্ষোভ-অবরোধ চলে। জাতীয় সড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের সরতে বলা হলেও তারা অনড় থাকে। জাতীয় সড়কের দুই লেনে বহু যানবাহন আটকে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের হটাতে পুলিস লাঠিচার্জ করে। বিক্ষোভকারীরা গ্রামের দিকে পালিয়ে যায়। তারপর গ্রামের বিভিন্ন দিক থেকে পুলিসকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। পুলিস তাদের তাড়া করলে বিক্ষোভকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আবার তারা দল বেঁধে ফিরে আসে। ইটবৃষ্টিও শুরু করে। বাধ্য হয়ে পুলিস টিয়ার গ্যাসের সেল ফাটায়। সকাল থেকে দফায় দফায় পুলিস ও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ চলে। ঘণ্টাদুয়েক পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় পুলিস।
এদিন সকালেই জঙ্গিপুরে আসেন মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ ওয়াকার রেজা। ছিলেন জঙ্গিপুরের পুলিস সুপার আনন্দ রায়, অতিরিক্ত পুলিস সুপার মহম্মদ নাসিম সহ কর্তারা। এদিন ডিআইজি তাঁর কনভয় নিয়ে উমরপুরে যান। সেখান থেকে রঘুনাথগঞ্জ হয়ে লালগোলা রাজ্য সড়ক ধরে সাইদাপুর পর্যন্ত যান। সেখান থেকে ফিরে তালাই ও পরে বীরভূম রঘুনাথগঞ্জ রাজ্য সড়ক হয়ে সন্ন্যাসীডাঙা পর্যন্ত যান। উমরপুরে রুটমার্চও করেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে একই ইস্যুতে রঘুনাথগঞ্জের উমরপুরে জনতা ও পুলিসের খণ্ডযুদ্ধের সময় জঙ্গিপুরের এক পুলিসকর্তার পিস্তল ছিনিয়ে নেয় বিক্ষোভকারীরা। হারানো অস্ত্র বুধবারও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিস। সেই অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিস। রঘুনাথগঞ্জে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, পুলিসের গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে ২২জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।