নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হল সত্যজিত্ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে (এসআরএফটিআই)। মঙ্গলবার উপাচার্যের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলনের একমাসে কনভেনশন, মশাল মিছিল করেন পড়ুয়ারা। রাতে মশাল মিছিল হতেই জটিলতার শুরু। বিশাল পুলিশ বাহিনী ঢোকে এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে। পরে যদিও বেশিরভাগ পুলিশ বেরিয়ে যায়, পড়ুয়ারা এই বিষয় নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। উপাচার্যের অভিযোগ, মশাল মিছিল করে ভয় দেখানো হয়েছে। আন্দোলনে রাজনীতির গন্ধও পাচ্ছেন তিনি।
এসআরএফটিআইয়ের পড়ুয়ারা চারটি প্রশ্ন তুলে ধরেছেন। তাঁদের বক্তব্য, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। পুলিশ ক্যাম্পাসে এসেছিল রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ। আমরা বুঝতে পারছি না, কর্তৃপক্ষর এই পদক্ষেপের কারণ কী? তাঁদের আরও অভিযোগ, চারজন ছাত্র উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে তাঁর লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন। কিন্তু উপাচার্য তা দিতে অস্বীকার করেন। পড়ুয়াদের অভিযোগ, যেসব পুলিশ ক্যাম্পাসে এসেছিলেন, তাঁদের বেশিরভাগের নামের ব্যাজ দেখা যাচ্ছিল না! পড়ুয়াদের বক্তব্য, উপাচার্য বলেছেন, ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করে ভয় দেখানো হয়েছে। কিন্তু গেস্ট হাউসের আশপাশে কোনো পড়ুয়া মিছিল করেননি বলেই দাবি তাঁদের।
অন্যদিকে, উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার বক্তব্য, সারাদিনের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পর সন্ধ্যায় তা নোংরা পর্যায়ে চলে যায়। অনুমতি ছাড়াই পড়ুয়ারা ক্যাম্পাসে আগুন হাতে মিছিল করেন। মূল ফটকের বাইরে অন্যান্য লোকজনও এই মিছিলে অংশ নেন। উপাচার্যের অভিযোগ, প্রায় ৫০ জন পড়ুয়া মশাল নিয়ে প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে বাসস্থানসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় স্লোগান দেন এবং তাতে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এটাকে কখনোই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বলা যায় না। উপাচার্যের বক্তব্য, বহিষ্কারের পরেও সেইসব পড়ুয়া ক্যাম্পাসেই আছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এই আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে চাইছেন সারা দেশে! এর মধ্যে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’ আছে বলেই মনে করেন তিনি। তাই ক্যাম্পাসের সকলের কথা ভেবেই রাতে পুলিশ ডাকা হয়েছিল। পড়ুয়াদের দাবি, রাতে বেশিরভাগ পুলিশ ফিরে গেলেও বুধবার সকালেও কয়েকজন পুলিশ ক্যাম্পাসে ছিলেন।



