নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গ্রাম-শহরে নারীঘটিত অপরাধ ঠেকাতে তাঁদের কথা শুনবেন মহিলা পুলিশ কর্মীরা। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াবেন এলাকার আইনরক্ষকরা। যাতে মহিলাঘটিত অপরাধ আগেভাগেই আটকানো যায়। মহিলা অফিসার বা কনস্টেবলরা তাঁদের মোবাইল নম্বর দিয়ে আসবেন এলাকায় এলাকায়। শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ এমনকি পারিবারিক হিংসার মতো ঘটনা ঘটলে, সঙ্গে সঙ্গে যাতে নির্যাতিতা বা পাড়ার লোকজন যাতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। যাতে তার ভিত্তিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা যায়। আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে এই কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। রাজ্যের নতুন সরকার নারী সুরক্ষায় বিশেষ জোর দিয়েছে। মহিলাদের বিরুদ্ধে যে কোনো অপরাধ যে বরদাস্ত করা হবে না, প্রশাসন তার কড়া বার্তা দিয়েছে পুলিশকে। কোথাও নারীরা অপরাধের শিকার হলে আইন মেনে তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। একইসঙ্গে দিন দশেক আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা রাজ্যের পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে জোর দিয়েছেন, মহিলা অপরাধ মোকাবিলা সবচেয়ে বেশি জরুরি। এর জন্য যোগাযোগ বাড়াতে হবে গ্রাম ও শহর এলাকায়। এরপরই রাজ্য পুলিশের ডিজি সমস্ত জেলাকে নির্দেশ দিয়েছেন মহিলা অপরাধ মোকাবিলায় ঠিক কী করতে হবে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, শহর বা গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরবেন মহিলা অফিসাররা। সেখানে গিয়ে মহিলাদের সঙ্গে কথা বলবেন। ওই এলাকায় তাঁদের কী ধরনের সমস্যা রয়েছে, জানতে চাইবেন। এলাকায় কোনো রোমিও গ্যাং বাইকে ঘুরে ইভটিজিং ও শ্লীলতাহানির মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে কি না, সেটা খুঁজবেন মহিলা অফিসাররা। এমনকি বিবাদ থেকে কেউ ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে কি না, তাও জানতে চাইবেন। পাশাপাশি আগের আমলে ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি বা মহিলা ঘটিত অপরাধের অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি বা পুলিশ অভিযোগ নেয়নি, জানতে চাইবেন তাও। স্থানীয় মহিলাদের মধ্যে ক্ষেোভ রয়েছে কি না, সেটা বোঝার চেষ্টা করা হবে এই ভিজিটে। এমনকি মহিলাদের যাতায়াতের পথে কোনও অন্ধকার রাস্তা থাকলে, সেটিও চিহ্নিত করা হবে। তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে থানা। সরকার মহিলা অপরাধ মোকাবিলায় কী করছে, তাও তুলে ধরবেন পুলিশ কর্মীরা।



