নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: গ্রাহকদের নথিপত্র দিয়ে অতিরিক্ত সিম অ্যাকটিভ করে মোটা টাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল সাইবার প্রতারকদের। রানিনগর থানার আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী কাতলামারি গ্রাম থেকে এঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদের সাইবার ক্রাইম বিভাগের হাতে গ্রেপ্তার দু’জনের নাম রাহুল শাহ ও সোহেল রানা ওরফে নয়ন। তাদের কাছ থেকে একাধিক কোম্পানির নতুন সিমকার্ড ও নানা সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার সাইবার ক্রাইম বিভাগের পুলিশ সূত্র মারফত খবর পায়, কাতলামারি গ্রামে নিজের বাড়িতে বসে বেআইনিভাবে সিমকার্ড তৈরি করছে ১৯বছরের রাহুল। সেই সিম বিভিন্ন সাইবার জালিয়াতিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ওই যুবকের বাড়িতে অভিযানে যায়। পুলিশের প্রশ্নের মুখে বিচলিত হয়ে পড়ে রাহুল। জেরায় সে স্বীকার করে, পিওএস আইডি অপব্যবহার করে সে ও তার সহযোগীরা গ্রাহকদের অজান্তে অতিরিক্ত সিম সক্রিয় করত। তার হেপাজত থেকে তিনটি টেলিকম সংস্থার বেশ কিছু সিমের প্যাকেট, সিম কেস ও ভিন্ন ভিন্ন আইএমএসআই নম্বরযুক্ত একাধিক সিমকার্ডের স্টিকার বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকেই রাহুল শাহকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাকে জেরা করে সোহেল রানার নাম জানা যায়। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। এটি একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধচক্রের অংশ বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান। এই চক্রের সঙ্গে আর কে বা কারা যুক্ত, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয় যে গ্রাহকরা সিম নিতে যেতেন, তাঁদের জমা দেওয়া নথিপত্র ব্যবহার করেই অতিরিক্ত সিম তুলে নিত এই যুবকরা। প্রকৃত গ্রাহক ঘুণাক্ষরেও জানতে পারতেন না, তাঁদের নামে অতিরিক্ত সিম তুলে নেওয়া হয়েছে। এইভাবে শয়ে শয়ে ভুয়ো সিম অ্যাকটিভ করে সেগুলি সাইবার প্রতারকদের কাছে মোটা টাকায় বিক্রি করা হত।