সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই সংস্কার করা হবে জঙ্গিপুর মহকুমা পুলিস মর্গের। ইতিমধ্যেই মর্গের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ওয়ার্ক অর্ডার ও দেওয়া হয়েছে। গুজরাতের একটি সংস্থাকে বরাত দেওয়া হয়েছে। সরঞ্জাম এসে পৌঁছলেই ইনস্টলেশনের কাজ শুরু হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরেই মর্গের কুলিং সিস্টেম বিকল অবস্থায় রয়েছে। মহকুমার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্ধার হওয়া বেওয়ারিশ লাশ মর্গে জমা হলে তাতে পচন ধরে। তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। দুর্গন্ধে হাসপাতালে আসা রোগীর পরিজনরা নাকে রুমাল চাপা দিয়ে আসতে বাধ্য হন। মর্গের আশপাশের দোকান ও প্রতিষ্ঠানের মালিকরা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ। মর্গে নেই বসার ব্যবস্থা বা বিশ্রামাগার। এবার মর্গটিকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। এ প্রসঙ্গে জঙ্গিপুরের মহকুমা শাসক একাম জে সিং বলেন, মর্গের ফ্রিজ সহ যাবতীয় সরঞ্জাম অর্ডার করা হয়েছে। মেশিন পত্র কয়েক দিনের মধ্যেই চলে আসবে। তারপর সেটি ইনস্টল করা হবে। এরজন্য খরচ পড়বে ১২ লক্ষ টাকা। জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতাল চত্বরেই রয়েছে পুলিস মর্গ। হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের কাছে ও পুরনো আউটডোর ভবনের পাশেই এই মর্গ ভবন। মর্গটির বহু বছর সংস্কার না হওয়ায় পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। মর্গের সমস্ত কুলিং সিস্টেম বিকল অবস্থায় রয়েছে। রাত বিরেতে আসা লাশ মর্গের মেঝেতেই পড়ে থাকে। বেওয়ারিশ লাশগুলো পাশের একটি রুমে রাখা হয়। সেখানে কুলিং সিস্টেম না থাকায় কয়েকদিন পরই পচন ধরে। তারপর দুর্গন্ধ ছড়ায়। পাশের একটি রুমে মর্গের কর্মী থাকেন। কর্মীদের ও বসা ও বিশ্রামের উপযুক্ত জায়গা নেই। বাইরে থেকে আসা ভুক্তভোগী মানুষজনের বসার কোনও ব্যবস্থা নেই। মাথার উপর নেই কোনও আচ্ছাদন। ফলে রোদ বৃষ্টিতে বাইরে গাছতলায় তাদের আশ্রয় নিতে হয়। সেখানে নেই কোনও পানীয় জলের ব্যবস্থাও। মর্গে আসা মানুষজন ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অপরদিকে মর্গের পাশে জমে রয়েছে আবর্জনার স্তূপ। গবাদি পশু থেকে কুকুর ও কাকপক্ষীরা সেখানে খাবারের খোঁজে ঘুরে বেড়ায়। চলতি মাসেই গুজরাতের একটি সংস্থাকে বরাত দেওয়া হয়েছে। জিক্স ফ্রিজারের এই মেশিন তৈরি হতে ১০ সপ্তাহ সময় লাগে। তারমধ্যে সপ্তাহ দু’য়েক ট্রায়াল পর্বে রাখা হবে। মর্গটির সংস্কারের লক্ষ্যে পুলিস প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক বার পরিদর্শন করা হয়েছে। অবশেষে মর্গটির সংস্কার হওয়ায় উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী।



