নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: রাতারাতি ভাতার, খণ্ডঘোষ, রায়না, গুসকরার বহু রাস্তার উপর মাটির আস্তরণ পড়ে গিয়েছে। বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তা মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। থমকে যাচ্ছে যানবাহন। বাইকের গতি বাড়ালেই দুর্ঘটনা অবশ্যম্ভাবী। জেলার বাসিন্দাদের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করতে পুলিস লাগাতার প্রচার শুরু করেছে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ভাতার থেকে বলগোনা রাস্তায় বেশ কয়েকজন বাইক চালক মঙ্গলবার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। খণ্ডঘোষ ব্লকের নবগ্রাম থেকে পাঠানপাড়াগামী যাওয়ার রাস্তাতেও অনেকেই জখম হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, জমি থেকে ধান কেটে তা ট্রাক্টরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ধান কাটার মেশিন বা হারভেস্টরও ব্যবহার করা হচ্ছে। জমির মাটি চাকার মাধ্যমে রাস্তার উপর পড়ছে। বেশ কিছুদিন ধরেই ধান তোলার কাজ চলছে। দিনের পর দিন রাস্তায় মাটি পড়ে আস্তরণ হয়ে গিয়েছে। সোমবার রাতে বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। ভাতারের বাসিন্দা অমিত ঘোষ বলেন, রাস্তায় সাইকেল নিয়েও যেতে ভয় লাগছে। পিচ দেখা যাচ্ছে না। বাসের চাকা স্লিপ করছে। ধীরগতিতে যানবাহন চালাতে হচ্ছে। তারপরও দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। খণ্ডঘোষের বাসিন্দা অমিত বাগদি বলেন, বৃষ্টি হওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। মাঠের মাটি ভিজে রয়েছে। ট্রাক্টর জমিতে নামলেই চাকা মাটিতে ভরে যাচ্ছে। তা রাস্তায় উঠছে। একসময় গোরুর গাড়িতে ধান আনা হতো। তখন জমি ভিজে থাকলেও তেমন সমস্যা হতো না। কয়েক বছর ধরে ট্রাক্টরের ব্যবহার বেড়েছে। আগের বছরগুলিতে অল্পবিস্তর সমস্যা হতো। কিন্তু এবছর বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তার দফরফা হয়ে গিয়েছে।
জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মেহেবুব মণ্ডল বলেন, চাষিদের সচেতন হতে হবে। তা না হলে তাঁরাও সমস্যায় পড়বেন। রাস্তা দিয়ে তাঁরাও যাতায়াত করেন। ট্রাক্টর জমি থেকে রাস্তায় তোলায় সময় কাদা সরিয়ে দিলে এই সমস্যা হতো না। কিন্তু সেটা কেউই করছেন না। তাছাড়া রাস্তায় মাটি জমে গেলে গ্রামের বাসিন্দাদেরই তা কোদাল, বেলচা দিয়ে তোলার দায়িত্ব নিতে হবে। বৃহত্তর স্বার্থে এই কাজ করা উচিত। মানুষ সচেতন না হলে আইন প্রয়োগ করে এই কাজ বন্ধ করা সম্ভব নয়। পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে। নিজেদের স্বার্থেই সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। রাস্তায় মাটি জমে যাওয়ার পর বৃষ্টি হলে সকলেই সমস্যায় পড়েন। দুর্ঘটনা বাড়ছে।