


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ‘সেন্সেটিভ’ মুর্শিদাবাদ জেলায় রামনবমীতে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা হবে। গোয়েন্দা রিপোর্ট এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সতর্ক জেলা পুলিস। এবছর নতুন করে রামনবমীর কোনও মিছিলের অনুমতি দেয়নি জেলা পুলিস। যে শোভাযাত্রাগুলি ঐতিহ্য মেনে প্রতিবছর করা হয়, সেগুলিই করতে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। এক একটি মিছিলে তিন থেকে পাঁচ হাজার মানুষ পা মেলায়। কয়েকটি বড় শোভাযাত্রায় দশ হাজারেরও বেশি মানুষের ভিড় হয়। এই সমস্ত ছোট-বড় শোভাযাত্রা থেকে যাতে কোনও রকম অশান্তি তৈরি না হয় সেদিকে বাড়তি নজর রাখবে পুলিস প্রশাসন। কোন কোন থানায় কতগুলি শোভাযাত্রার আয়োজন হচ্ছে তা নিয়ে ইতিমধ্যে বৈঠক সেরেছেন জেলা শীর্ষ পুলিসকর্তারা। বিশেষ করে বেলডাঙা, নওদা, শক্তিপুর, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ, কান্দি, ভরতপুর এলাকায় গণ্ডগোলের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ পুলিস জেলায় এবার ৭০টি শোভাযাত্রা বেরবে। জঙ্গিপুর পুলিস জেলায় ২০টি শোভাযাত্রা হবে। এই শোভাযাত্রাগুলির জন্য প্রাথমিকভাবে পুলিসের কাছে অনুমতি চেয়েছে আয়োজকরা। তবে অনুমতি ছাড়াই বেশ কিছু শোভাযাত্রা বের হতে পারে বলেই গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে। তাই বাড়তি সতর্ক রয়েছে জেলা পুলিস।
মুর্শিদাবাদের পুলিস সুপার সূর্যপ্রতাপ যাদব বলেন, গতবার যা শোভাযাত্রা বের হয়েছিল এবারও তাই হবে। নতুন করে কোনও শোভাযাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুমোদনপ্রাপ্ত শোভাযাত্রাগুলিতে প্রচুর সংখ্যক পুলিস মোতায়েন করা হবে। যে যে রাস্তা দিয়ে রামনবমীর শোভাযাত্রা যাবে সেই রাস্তায় কোনও মসজিদ বা ঈদগাহ আছে কি না, সেই তথ্যও সংগ্রহ করেছে পুলিস। বহরমপুর শহরেও রামনবমীর দিন বিশাল শোভাযাত্রা হয়। অস্ত্র নিয়েও মিছিলের অগ্রভাগে দেখা যায় যুবকদের। সামান্য কোনও প্ররোচনা থেকে বড় সমস্যা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। শহরের ভিতরে বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করে মিছিলটি। মিছিলে ঊর্ধিধারীদের পাশাপশি সাদা পোশাকে পুলিস মোতায়েন করা হয়। এবার প্রতিটি মোড়ে বাড়তি ফোর্স থাকবে এবং বহুতলের উপর থেকেও পুলিস নজরদারি চালাবে। তবে অনুমোদনহীন শোভাযাত্রা ঘিরেই উদ্বেগ বাড়ছে। সাধারণত, মুর্শিদাবাদ জেলায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দল সহ বিভিন্ন রামপুজোর উদ্যোক্তারা রামনবমীর মিছিল বের করে। তবে বেশ কয়েকটি বড় শোভাযাত্রার পিছনে থাকে গেরুয়া শিবিরের নেতারা। এবার তাদেরই মদতে পুলিসি অনুমতি ছাড়াই বেশকিছু ছোট আকারের মিছিল বের হতেই পারে। এই সমস্ত মিছিলগুলির কোনও রুট ম্যাপ থাকে না। তাই যে কোনও রাস্তায় গিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে বলেই উদ্বেগ বাড়ছে।
বহরমপুরের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক লাল্টু দাস বলেন, মানুষের মধ্যে রামনবমী নিয়ে বিশেষ আবেগ আছে। এমনিতেই বিগত বেশ কয়েকটি ঘটনায় এই জেলার হিন্দুরা তেতে আছে। তাই গতবারের থেকে বেশি সংখ্যক মানুষ এবার রামনবমীর মিছিলে অংশ নেবে। পুলিস যে সমস্ত মিছিলের অনুমোদন দিয়েছে সেগুলি তো বড় আকারে বের হবেই। পাশাপশি অনেকেই আবেগবশত নতুন মিছিল বের করবে। বিজেপি কিন্তু রামনবমীর কোনও মিছিল আয়োজন করে না। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন এইসব মিছিলের দায়িত্বে থাকে।