Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাওনা ১০ হাজার টাকা চাওয়াতেই যুবককে খুন, তদন্তে জানাল পুলিস

ধার নেওয়া ১০ হাজার টাকা বারবার ফেরত চাইছিলেন। সেটাই ছিল ‘অপরাধ’। আর সেই আক্রোশেই যুবককে গলায় বেল্ট জড়িয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল। মুরারইয়ের বাহাদুরপুর গ্রামে খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার এমনটাই জানিয়েছে পুলিস।

পাওনা ১০ হাজার টাকা চাওয়াতেই যুবককে খুন, তদন্তে জানাল পুলিস
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ধার নেওয়া ১০ হাজার টাকা বারবার ফেরত চাইছিলেন। সেটাই ছিল ‘অপরাধ’। আর সেই আক্রোশেই যুবককে গলায় বেল্ট জড়িয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল। মুরারইয়ের বাহাদুরপুর গ্রামে খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার এমনটাই জানিয়েছে পুলিস। বুধবার রাতে ওই খুনের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃত মনতোষ মাল। এই মামলায় এর আগে শুভ মাল ও তুফান সাঁতরা গ্রেপ্তার হয়। 

Advertisement

বাহাদুরপুর গ্রামের বাগানপাড়ার বাসিন্দা বছর উনতিরিশের নূর ইসলাম শেখ গত ৩ এপ্রিল রাত ১০টা নাগাদ একটি ফোন কল পেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তারপর থেকে নূর ইসলামের আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। দু’দিন পরে গ্রামের পাশ দিয়ে যাওয়া পাগলা নদীর ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তার ধার থেকে ঘাস ও লতাপাতায় ঢাকা ওই যুবকের ফুলেফেঁপে ওঠা মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃতের গলায় বেল্ট জড়ানো ও বাঁ হাত ভাঙা ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়।
মৃত যুবক নিজের গ্রামেই মোবাইল রিপেয়ারিং এবং অনলাইনের ব্যবসা করতেন। লোককে টাকাও ধার দিতেন নূর। পুলিস তদন্তে নেমে একটি ডায়েরি উদ্ধার করে। তাতে মৃত যুবক কার কাছ থেকে কত টাকা পান সেই হিসেব লেখা ছিল। নূরের পরিবারের তরফে জানানো হয়, তিনি আবাস যোজনায় বাড়ি পেয়েছিলেন। আরও কিছু টাকা দিয়ে ভালোভাবে বাড়িটি করতে চেয়েছিলেন ওই যুবক। তার জন্য অনেকের কাছে ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাইছিলেন। ঘটনার রাতে দেনাপাওনা মিটিয়ে দেওয়ার নাম করে ওই যুবককে ফোনে ডাকা হয়েছিল। পুলিস সেই সূত্র ধরেই খুনের ঘটনার কিছুদিন পর গ্রামেরই শুভ মাল নামে একজনকে আটক করে। দীর্ঘ জেরায় ভেঙে পড়ে শুভ খুনের অভিযোগ স্বীকার করে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিসের দাবি, জেরায় সে জানায়, নূরের কাছ থেকে সে ১০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। সেই টাকা ফেরত চেয়ে চাপ দিচ্ছিল নূর। ঘন-ঘন ফোন আসছিল। সেই রাগেই নূরকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষেছিল শুভ। এই খুনের সহযোগী হিসাবে তার বাড়িতে বেড়াতে আসা আত্মীয় বাঁকুড়ার বাসিন্দা তুফান সাঁতরা ও গ্রামের বন্ধু মনতোষ মালকে সঙ্গে নিয়েছিল শুভ। পুলিসের দাবি, তুফান ও মনতোষ নূরের হাত-পা চে‌঩পে ধরেছিল। শুভ নূরের গলায় বেল্ট জড়িয়ে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করে। পরে তারা লতা-পাতা দিয়ে মৃতদেহ ঢেকে দেয়। পুলিস তুফান ও মনেতোষের খোঁজ শুরু করে। দু’জনেই গা ঢাকা দিয়েছিল। শেষমেশ দিন তিনেক আগে গড়বেতা থেকে তুফানকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। এরপরই বুধবার রাতে মুরারই বাজার থেকে মনতোষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিস জানিয়েছে, এই খুনে জড়িত তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৯০ দিনের মাথায় আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন মৃত যুবকের ভাই আলি আগসর শেখ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ