নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: প্রতারিতদের কেউ ট্রেনের টিকিট ক্যানসেল করতে গিয়েছিলেন গুগল থেকে নম্বর সংগ্রহ করে। কেউ ফোনেই ব্যাঙ্কের কেওয়াইসি আপডেট করতে গিয়েছিলেন। কেউ টেলিগ্রাম গ্রুপে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ জব করতে গিয়েছিলেন। এঁরা সকলেই প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে খুইয়েছিলেন কয়েক লক্ষ টাকা। তাঁরা পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অবশেষে সোমবার ৩০ প্রতারিতকে দু’কোটি টাকা ফেরাল বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা। প্রতারিতদের সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রবীণ হলেও বাদ যায়নি তরুণ-তরুণীরাও। তাঁরাও প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছিলেন।
এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে সল্টলেকে বিধাননগর পুলিস কমিশনারের অফিস থেকে টাকা ফেরানো হয়। বিধাননগরের গোয়েন্দাপ্রধান সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ, এসিপি (ডিডি) সপ্তর্ষি ভট্টাচার্য সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। হলদিয়া পেট্রো কেমিক্যালস থেকে অবসরপ্রাপ্ত সুভাষচন্দ্র সরকার সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকা খুইয়েছিলেন। তিনি প্রায় সাড়ে ছ’লক্ষ টাকা ফেরত পেলেন। সুভাষচন্দ্রবাবু বলেন, ব্যাঙ্ক ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে আমার কাছে একটি ফোন এসেছিল। কেওয়াইসি আপডেট করতে বলে। আমি সত্যি ভেবে তথ্য শেয়ার করেছিলাম। তারপর আমার টাকা ডেবিট হয়ে যায়। সোমদত্তা রায় নামে এক তরুণী টেলিগ্রাম গ্রুপে ওয়ার্ক ফ্রম হোম জব করতে গিয়ে ৯ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা খুইয়েছিলেন। তিনি ৯ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা ফিরে পেলেন। সোমদত্তাদেবী বলেন, আমি চাকরি খুঁজছিলাম। তারপর টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে জব করেও বুঝতে পারিনি। আজ টাকা ফিরে পেয়ে খুবই খুশি। অনেকে বলেন, পুলিস কাজ করে না। এটা যে ভুল, তা প্রমাণ হয়ে গেল। চিকিৎসক হিমানীশ চৌধুরী ট্রেনের টিকিট ক্যানসেল করার জন্য গুগল থেকে নম্বর নিয়ে ফোন করেছিলেন। তাঁকে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হয়। তারপরই তাঁর সাড়ে তিন লক্ষ টাকা লোপাট হয়ে যায়। তিনি প্রায় দু’লক্ষ টাকা ফেরত পেয়েছেন। হিমানীশবাবু বলেন, ফোনে বুঝতে পারিনি ওরা প্রতারক। তাই যখন অ্যাপ ডাইনলোড করার কথা বলেছিল তা করে নিয়েছিলাম। পরে দেখি টাকা ডেবিট হয়ে যাচ্ছে। ব্যাঙ্কে গিয়ে অ্যাকাউন্ট লক করি। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনের মাঝে অর্ক মিত্র নামে এক যুবক বলেন, আমার ১৮ লক্ষ টাকা প্রতারণা করা হয়েছে। এক লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা ফেরত পেয়েছি। বাকি টাকা কবে পাব? অর্কবাবুও টেলিগ্রাম গ্রুপে ওয়ার্ক ফ্রম হোম জবে পা দিয়ে টাকা খুইয়েছিলেন। বিধাননগরের গোয়েন্দাপ্রধান বলেন, বর্তমানে টেকনোলজির কারণে বয়স্করা একটু বেশি টার্গেট হচ্ছেন। আমরা চেষ্টা করছি, যাতে সবার টাকা ফেরানো যায়। সচেতন থাকুন। তবুও কেউ যদি প্রতারিত হন ন্যাশনাল পোর্টালে দ্রুত অভিযোগ জানিয়ে সাইবার থানায় আসুন। আমরা পাশে আছি।