Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জেমস লং সরণির পথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাল পুলিশ, কাটআউটে গার্ডরেল-বাম্পার

গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র রাতে দুই বন্ধু খেতে বেরিয়েছিলেন। ফেরার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। লরির ধাক্কায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় জোকা ইএসআইয়ের দুই ডাক্তারি পড়ুয়ার।

জেমস লং সরণির পথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে  সাজাল পুলিশ, কাটআউটে গার্ডরেল-বাম্পার
  • ৯ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র রাতে দুই বন্ধু খেতে বেরিয়েছিলেন। ফেরার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। লরির ধাক্কায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় জোকা ইএসআইয়ের দুই ডাক্তারি পড়ুয়ার। এই ঘটনার পর এলাকার মানুষ জেমস লং সরণির পথ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মূলত যানবাহনের অত্যধিক গতি ও পণ্যবাহী গাড়ির বেপরোয়া যাতায়াতই দুর্ঘটনার আশঙ্কাকে উসকে দিচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। সেই অভিযোগ মাথায় রেখে ডায়মন্ডহারবার রোডের সমান্তরাল জেমস লং সরণির পথ সুরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাল লালবাজার। বিশেষত নজর দেওয়া হয়েছে কাটআউটগুলিতে। বসেছে বাম্পার, গতি নিয়ন্ত্রণ করতে বসানো হয়েছে গার্ডরেল। 

Advertisement

তারাতলা থেকে জোকার ডায়মন্ড পার্ক পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার বিস্তৃত জেমস লং সরণি। এরমধ্যে ঘোলশাপুর রেল কলোনি থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত কোনও ডিভাইডার নেই। তারপর অবশ্য ডায়মন্ড পার্ক পর্যন্ত গোটা রাস্তায় রয়েছে কংক্রিটের ডিভাইডার। এই পাঁচ কিলোমিটারে ক্রসিং না হলেও কাটআউট রয়েছে ১৭টি। সবকটি কাটআউটকেই স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করেছে ট্রাফিক বিভাগ। সূত্রের খবর, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনাপ্রবণ কাটআউট হল পাঁচটি। জেমস লং-শীলপাড়া ক্রসিং থেকে পূর্বপাড়া ক্রসিংয়ের মধ্যেই রয়েছে এই পাঁচটি কাটআউট। উল্লেখ্য, এই পূর্বপাড়া ক্রসিংয়ের সামনেই বেপরোয়া লরির চাকায় পিষ্ট হয়েছিলেন দুই ডাক্তারি পড়ুয়া। 
এই পাঁচটি কাটআউটকে পাখির চোখ করে সুরক্ষা ব্যবস্থাকে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি কাটআউটের দুই প্রান্তে বসানো হয়েছে গার্ডরেল। পুলিশ জানিয়েছে, উত্তর ও দক্ষিণমুখী দু’টি লেন থেকে এই কাটআউট দিয়ে গলিতে ঢোকে বাইক, সাইকেল, গাড়ি, রিকশ। উলটোদিক থেকে ছুটে আসে দ্রুত গতির গাড়ি। আচমকা কোনও গাড়ি গলি থেকে বেরিয়ে এলে গতি নিয়ন্ত্রণ কোনও গাড়ির পক্ষেই সম্ভব নয়। তাই কাটআউটে বসানো হয়েছে গার্ডরেল। যাতে উত্তর ও দক্ষিণমুখী লেনে যান চলাচল কিছুটা হলেও শ্লথ হয়। একইসঙ্গে, গার্ডরেল থাকার জেরে কাটআউটের সামনে কোনো চালক আর ডিভাইডার ঘেঁষে গাড়ি চালাবেন না। কাটআউটের সামনে থাকা এই গার্ডরেলে দৃশ্যমানতা বজার রাখতে গ্লো-সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, এর ফলে রাতের দিকে গার্ডরেল দেখতে অসুবিধা হবে না চালকদের। গার্ডরেলে রেট্রো রিফ্লেক্টিভ টেপ লাগানো হয়েছে। তাতে দুর্ঘটনা আশঙ্কা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। 
এখানেই শেষ নয়। চৌরাস্তা-ডায়মন্ড পার্ক অংশে জেমস লং সরণির দু’টি লেনেরই গড় গতি পরীক্ষা করে লালবাজারের ট্রাফিক বিভাগ। সেই সমীক্ষা বলছে, দক্ষিণমুখী লেনের চেয়ে উত্তরমুখী লেনে যানবাহনের গতি বেশি থাকে। অর্থাৎ, পূর্বপাড়া থেকে সখেরবাজারমুখী লেনে যানবাহনের গড় গতি প্রায় ৫০ কিমি প্রতি ঘণ্টা। যা প্রাণঘাতী বলেই দাবি করেছে পুলিশ। এর জেরে প্রতি কাউট আউটের আগে বাম্পার তৈরি করা হয়েছে। যাতে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। 

সম্পর্কিত সংবাদ