নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দীর্ঘ টালবাহানার পর কংগ্রেসেকে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলনের অনুমতি দিল পুলিশ। রামলীলা ময়দানেই ওই সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও জুড়ে দেওয়া হয়েছে গুচ্ছ শর্ত। এর মধ্যে অন্যতম হল ১ নভেম্বরের র্যালি শেষ করতে হবে বিকাল ৫টার মধ্যে। এদিকে, অশোক হোটেলের পরিবর্তে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাসভবনে হবে জ্ঞানেশ কুমারের প্রতীকী ইমপিচমেন্ট কর্মসূচি।
এর আগে, ইন্ডিয়া জোটের পূর্ব নির্ধারিত ঘোষিত কর্মসূচি অর্থাৎ জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতীকি ইমপিচমেন্ট মোশনের অনুমতি দেওয়া হয় না। দিল্লি পুলিশ জানিয়ে দেয়, অশোক হোটেলেও এসব করা যাবে না। রামলীলা ময়দানেও নয়। বিরোধীরা তারপরই সরব হয়ে বলে, নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের আপাতত একটাই মিশন। যেভাবেই হোক জ্ঞানেশ কুমারকে সবরকম আঁচ থেকে রক্ষা করতে হবে। কারণ, যদি তিনি কোনো কারণে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন কিংবা বিগড়ে যান, তাহলে এই দু’জনের আসন হবে টলোমলো। সাধারণত ইমপিচমেন্ট মোশন এনে বিচারপতি অথবা নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর প্রক্রিয়া করা হয় একমাত্র সংসদে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে অনড় বিরোধীরা আন্দোলনেরই অন্যতম অঙ্গ হিসাবে সংসদের বাইরে দিল্লির অশোক হোটেলের লনে একটি নকল সংসদের আয়োজন করে প্রতীকি ইমপিচনমেন্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কংগ্রেস এমপি কে সি বেণুগোপাল অভিযোগ করেন, আগে অনুমতি দেওয়ার পর এখন দিল্লি পুলিশ অশোক হোটেলের ওই কর্মসূচিতে অনুমোদন দিচ্ছে না। এমনকি রামলীলা ময়দানেও ওই কর্মসূচি করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র সমালোচনা শুনতে রাজি নয় কেন্দ্র। কারণ, দিল্লি পুলিশের এই সিদ্ধান্ত তাদের একক হতে পারে না। অবশ্যই কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ স্তর অর্থাৎ নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের নির্দেশ। একই সুরে রাহুল গান্ধী বলেছেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভ, প্রতিবাদ চলবে। ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের ভোট বাঁচাও সমাবেশ হবে। বেণুগোপাল বলেছেন, অমিত শাহ আপনি আমাদের কতরকমভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বেণুগোপাল বলেন, দিল্লি পুলিশ কত আটকানোর চেষ্টা করবে? অশোক হোটেল, রামলীলা সব বাতিল করুন। আমরা নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের বাসভবনের সামনে ধরনায় বসব। জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতেই হবে।
যদিও দিল্লি পুলিশ বলেছে, অশোক হোটেল বেসরকারি সংস্থা। আমরা কেন অনুমতি বাতিল করব? অশোক হোটেল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। যদি তারা পুলিশকে বলে যে নিরাপত্তার অভব বোধ করছে, তাহলে পুলিশকে সক্রিয় হতে হবে। পয়লা নভেম্বর রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের সমাবেশের অনুমতি একই রয়েছে। এদিন, দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট নো অবজেকশন সার্টিফিকেট পেয়েছে। তবে ওই ময়দান কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষেই এই এনওসি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সংগঠকদের বলা হয়েছে, প্রবেশ ও বাহির পথ সহ বিভিন্ন স্থানে সিসিক্যামেরা লাগাতে হবে। রাখতে হবে কন্ট্রোল রুম ও অন্তত পাঁচটি স্ক্রিন। জলের ট্যাঙ্ক ও টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে। অনুষ্ঠান যাতে সুষ্ঠুভাবে হয়, তার জন্য পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখতে হবে। সমাবেশের আগের দিন বা পরে রামলীলা ময়দানে কাউকে রাতে থাকতে দেওয়া হবে না। রামলীলা ময়দান। ফাইল চিত্র



