নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে মাদক পাচার এবং মহিলাদের উপর অপরাধ রুখতে পুলিশকে কার্যত অবাধ স্বাধীনতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, ‘মাদক পাচার ও মহিলাদের উপর অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের হাত বাঁধা থাকবে না। এক্ষেত্রে যদি পুলিশ কোনো সমস্যায় পড়ে, আমি ঢাল হয়ে দাঁড়াব।’ সেই সঙ্গে দুষ্কৃতীদের সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের গায়ে হাত দিলে কেউ রেহাই পাবে না। তাদের কাস্টডিতে রেখে সাজা দেওয়া হবে।’ শনিবার দুপুরে লালবাজারে সদ্যনিযুক্ত ৩০৯ জন এসআই-সার্জেন্টের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আরও চার হাজার কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে বলেও জানান।
এদিন লালবাজারে দাঁড়িয়ে কলকাতা পুলিশের শীর্ষকর্তাদের পাশে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চোরবাগান প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘চোরবাগানে উদ্যোক্তা, স্বেচ্ছাসেবক এবং কলকাতা পুলিশের মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় হতে পারত। তাহলে হয়তো বা এই বিপর্যয় এড়ানো যেত।’ উল্লেখ্য, চোরবাগানে দুর্গাপুজোর
সপ্তমীর রাতে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু
হয়। কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও এত বড়ো
বিপর্যয়ের পরও কলকাতা পুলিশের শীর্ষকর্তাদের কারও শাস্তি হয়নি। শুধুমাত্র স্থানীয় গিরিশ পার্ক থানার ওসিকে ছুটিতে পাঠিয়েছে লালবাজার।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিজেপি এরাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গঙ্গাসাগর মেলার আগে, ডিসেম্বর মাসে আরও ৪ হাজার কনেস্টবল নিয়োগ করা হবে।’ এছাড়া দমকল বিভাগেও নিয়োগের আশ্বাস
দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে লালবাজারে মুখ্যমন্ত্রীকে বেশ খোলা মেজাজে দেখা যায়। সদ্যনিযুক্ত পুলিশ অফিসাররা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফিও তোলেন।
প্রসঙ্গত, দেশের অন্যান্য রাজ্যে যেখানে প্রতি ১ লক্ষ জনসংখ্যা পিছু পুলিশের সংখ্যা ১৫৫, সেখানে এ রাজ্যে প্রতি ১ লক্ষে পুলিশের সংখ্যা ১০৫। রাজ্যে পুলিশ ও পরিকাঠামোর এই ঘাটতি নিয়ে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স স্কিমে’ প্রতি থানায় মাত্র একটি করে গাড়ি রয়েছে। আগামী দিনে এই গাড়ির সংখ্যা বাড়িয়ে তিনটি করার আশ্বাস দেন তিনি। লালবাজারে উপস্থিত আইপিএস অফিসারদের মুখ্যমন্ত্রী এদিন নতুন করে আইপিএস অ্যাসোসিয়েশন গঠন করতে বলেন। প্রশাসনের এক সূত্র জানাচ্ছে, আইএএস এবং আইপিএসদের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতেই এই নির্দেশ বলে মনে করা হচ্ছে।



