নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: সোনা ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনায় বিধাননগর মহকুমা আদালতে চার্জশিট পেশ করল পুলিশ। তবে, ঘটনার পর প্রায় তিনমাস কেটে গেলেও মূল অভিযুক্ত রায়গঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মন এখনো অধরা। তিনি নাকি পলাতক! এই খুনের ঘটনায় রাজু ঢালি, তুফান থাপা, সজল সরকার, বিবেকানন্দ সরকার এবং গোবিন্দ সরকার নামে পাঁচজনকে আগেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। তাদের বিরুদ্ধেই চার্জশিট জমা পড়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, তিনি পলাতক এই সমস্ত বিষয়গুলি চার্জশিটে উল্লেখও করা হয়েছে। তিনি গ্রেপ্তার হলে পরবর্তী ক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দেওয়ারও অপশন রয়েছে।
সল্টলেক দত্তাবাদে স্বপন কামিল্যার সোনার দোকান ছিল। গত ২৮ অক্টোবর সেখান থেকে তাঁকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ। তারপর নিউটাউনের ফ্ল্যাটে তুলে নিয়ে গিয়ে তাঁকে খুন করা হয়। পরদিন ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছি থেকে স্বপনবাবুর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ওই ঘটনায় মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে তৎকালীন রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। বিধাননগর দক্ষিণ থানার মামলা পরে কমিশনারেটের গোয়েন্দা শাখার হাতে যায়। এই ঘটনায় মোট পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ, চুরি, তথ্য-প্রমাণ লোপাট, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র প্রভৃতি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।
তদন্ত চলাকালীন বারাসত জেলা আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন প্রশান্ত বর্মন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুরও করে। নিম্ন আদলেতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর কমিশনারেট। হাইকোর্ট আগাম জামিন বাতিল করে অভিযুক্ত বিডিওকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। যদিও সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। তারপরই বিধাননগর আদালত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর অভিযুক্ত সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হন। সুপ্রিম কোর্টও তাঁকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশকেও অমান্য করেন অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মন। পুলিশ সূত্রের খবর, চার্জশিটে সেসবের উল্লেখও রয়েছে। অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না-হওয়ায় তদন্তের কিছু অংশ বাকি রয়েছে এখনো। তবে, ধৃতদের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। সেখানেও উল্লেখ রয়েছে প্রশান্ত বর্মনের ভূমিকার।