Bartaman Logo
৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তমলুকে মাদ্রাসা পরিদর্শকের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পুলিসের, বেতন বন্ধ

ভুয়ো শূন্যপদ তৈরি করে নিয়োগের ঘটনায় জেলবন্দি মাদ্রাসা পরিদর্শক বিশ্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিল পুলিস।

তমলুকে মাদ্রাসা পরিদর্শকের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পুলিসের, বেতন বন্ধ
  • ২৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ভুয়ো শূন্যপদ তৈরি করে নিয়োগের ঘটনায় জেলবন্দি মাদ্রাসা পরিদর্শক বিশ্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিল পুলিস। তমলুক থানার পুলিস গত সপ্তাহে ধৃতের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে।  ধৃতের বেতনও বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। তাঁর বিরুদ্ধে মাদ্রাসা বিষয়ক দপ্তরে রিপোর্ট পাঠিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। যদিও বেতন বন্ধ ছাড়া এখনও পর্যন্ত বিভাগীয় স্তরে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

Advertisement

উল্লেখ্য, মাদ্রাসায় ভ্যাকেন্সি তৈরি করার এক্তিয়ার একমাত্র রাজ্য সরকারেরই রয়েছে। জেলা প্রশাসন কোনও মাদ্রাসায় মর্জিমতো ভ্যাকেন্সি তৈরি করে নিয়োগ করতে পারে না। গত ১৩ জানুয়ারি পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সংখ্যালঘু বিষয়ক অফিসে হাজির হন নরঘাট হাই মাদ্রাসার মুখ্য সম্প্রসারক শেখ আকসার আহমেদ। তিনি ওই মাদ্রাসায় তিনজন সম্প্রসারকের নিয়োগপত্র নিয়ে হাজির হন। তাঁদের প্রত্যেকের অ্যাপ্রুভাল জোগাড় করতেই ওই অফিসে যান। ২০২৪সালে ২৬ সেপ্টেম্বর তমলুকে অবস্থিত মাদ্রাসা বিষয়ক জেলা অফিস থেকে শূন্যপদ তৈরি করা হয়েছে বলে একটি ভুয়ো অর্ডার কপি আকসার সাহেব দেখান। ওই অফিসের মেমো নম্বর দিয়ে সেই শূন্যপদ সংক্রান্ত অর্ডার কপি বের করা হয়েছিল। 
ওই অর্ডারের কপি দেখেই চমকে যান জেলা সংখ্যালঘু বিষয়ক অফিসার বিপ্লব সরকার। কোথা থেকে ওই কপি জোগাড় করেছেন তা আকসার সাহেবের কাছ থেকে জানতে চান। জবাবে ওই আকসার সাহেব জানান, মাদ্রাসা পরিদর্শক বিশ্বরূপ বিশ্বাসের কাছ থেকে ওই কপি পেয়েছেন। তারভিত্তিতেই তিনজনকে নিয়োগ করা হয়েছে। যদিও মাদ্রাসা পরিদর্শক এরকম কোনও অর্ডার কপি কাউকে দেননি বলে তিনি অস্বীকার করেন।
এরপর গত ১৪ জানুয়ারি ওই ঘটনায় তমলুক থানায় এফআইআর করেন জেলা সংখ্যালঘু বিষয়ক অফিসার বিপ্লববাবু। গত ১৮ জুন তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের সিজেএম কোর্টে আত্মসমর্পণ করেন। মাদ্রাসা পরিদর্শক। তারপর থেকেই তিনি জেলবন্দি রয়েছেন।
গ্রেপ্তার হওয়ার পরই তাঁর বিরুদ্ধে রিপোর্ট পাঠানো হয় রাজ্যে। তার ভিত্তিতে ধৃতের বেতন বন্ধ করে দেয় রাজ্য। এদিকে, ধৃত ওই পরিদর্শকের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে তমলুক থানার পুলিস। 
পুলিসি তদন্তে জানা গিয়েছে, ভুয়ো শূন্যপদ তৈরি করে নিয়োগের ঘটনায় লেনদেন হয়েছিল। এক অসাধু চক্র ওই ঘটনায় মধ্যস্থতা করেছিল। এই নিয়োগে প্রায় ছ’লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। অনলাইনে ঘুরপথে সেই টাকা ধৃত মাদ্রাসা পরিদর্শকের কাছে পৌঁছে যায়। গোটা ঘটনার তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট পেশ করেছে পুলিস।
জেলা সংখ্যালঘু বিষয়ক অফিসার বিপ্লববাবু বলেন, ওই কেসে চার্জশিট জমা করেছে পুলিস। ধৃত মাদ্রাসা পরিদর্শকের মাইনেও বন্ধ রেখেছে দপ্তর।

সম্পর্কিত সংবাদ