নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মাদক কেসের ভয় দেখিয়ে শিক্ষককে রাস্তা থেকে তুলে থানায় নিয়ে গিয়ে রাতভর আটকে ১৫ হাজার টাকা আদায় করার অভিযোগ। পাঁশকুড়া থানার এক সাব ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েই সংশ্লিষ্ট পুলিস অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিস। শুক্রবার সকাল ১১টায় ওই সাব ইন্সপেক্টরকে অতিরিক্ত পুলিস সুপার(হেডকোয়ার্টার) অফিসে তলব করা হয়েছিল। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়েছে। গোটা ঘটনায় পুলিস মহলে ব্যাপক হইচই পড়ে গিয়েছে। পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, ওই ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ঝাড়গ্রামের জামবনী থানার জুগিবাঁধ প্রাইমারি স্কুলের টিচার ইন-চার্জ হলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানার বাসুদেবপুর গ্রামের সুজিত পড়িয়া। গত ২৬ মার্চ সুজিতবাবু নিজের গ্রামেরই সমীর ঘোষ নামে এক ব্যক্তির মারুতি ভ্যানে চড়ে ঝাড়গ্রাম থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। সমীরবাবু ভাড়া নিয়ে ওইদিন ঝাড়গ্রামে গিয়েছিলেন। তারপরই সুজিতবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই শিক্ষককে গাড়িতে তুলে বাড়ি ফিরছিলেন। সন্ধ্যা নাগাদ মেচগ্রাম পেরিয়ে গাড়িটি পীতপুরের কাছে পৌঁছতেই ইঞ্জিন বিকল হয়। মোটর মেকানিক ডেকে গাড়ি সারাইয়ের কাজ চলছিল।
সেই সময় দু’জনে পাশেই একটি হোটেলে বসেছিলেন। ওই সময় পাঁশকুড়া থানার পুলিসের টহলরত ভ্যান সেখানে পৌঁছয়। দু’জনে হোটেলে বসে কেন পুলিস জানতে চায়। সুজিতবাবু নিজের পরিচয় দিয়ে জানান, গাড়িতে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় সারানোর কাজ চলছে। সেজন্য তাঁরা দু’জনে হোটেলে বসে আছেন। পেশায় শিক্ষক শুনে পুলিস ওই দু’জনকে তাদের সঙ্গে থানায় যেতে বলে। সুজিতবাবু বারবার আপত্তি করলেও তাতে কর্ণপাত করেননি পুলিস অফিসার।
দু’জনকে থানায় আনার পরই ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। মাদক কেসে জড়িয়ে গেলে চাকরি যাওয়ার পাশাপাশি বদনাম হয়ে যাবে বলে ভয় দেখানো হয়। সুজিতবাবু ভয় পেয়ে যান। এরপর তাঁর ভগ্নিপতিকে ফোন করে গোটা ঘটনার কথা জানান। রাত ১১টা নাগাদ তাঁর আত্মীয় থানায় হাজির হন। এরপর ফোন পে-র মাধ্যমে ন’হাজার এবং নগদ ছ’হাজার টাকা নিয়ে রাত ১২টার পর তাঁদের ছাড়া হয়। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা নাগাদ সুজিতবাবু এবং গাড়ি চালক সমীর ঘোষ বাড়ি ফেরেন। থানায় চরম লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ ওই টিচার ইন-চার্জ পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিস সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। গোটা ঘটনায় ওই পুলিস অফিসারকে শুক্রবার এসপি অফিসে তলব করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে নন্দকুমার থানা এলাকায় এক যুগলের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের ঘটনায় তিন পুলিস কর্মীকে সাসপেন্ড করেছিলেন পুলিস সুপার। সুজিতবাবু বলেন, গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ায় পথের ধারে হোটেলে বসেছিলাম। এরকম অবস্থায় থানায় নিয়ে গিয়ে হেনস্তা করা হবে ভাবতেও পারিনি। জোরজুলুম করে ১৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। পুলিস সুপারের অফিস থেকে আমাকে ফোন করে গোটা ঘটনা জানতে চাওয়া হয়। আমি সবটাই বলেছি। আশা করি, ওই ঘটনায় জড়িত পুলিস অফিসারের শাস্তি হবে। পাঁশকুড়া থানার অভিযুক্ত এসআই বলেন, ওই শিক্ষকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। আইনজীবীর উপস্থিতিতে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ফাইন কাটা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে কেন তিনি অভিযোগ করলেন, তা জানি না।