Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কমিশনের নির্দেশে অতি সক্রিয়তা পুলিশের, উদ্বেগে আসানসোল-দুর্গাপুরের বাসিন্দারা

নির্বাচনি আবহে আইনি ক্ষমতা এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে। তাতেই যে একতরফা কাজকর্ম হচ্ছে, তাতে রাজ্যে পালাবদল হলে কী হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আসানসোল দুর্গাপুর শহরে।

কমিশনের নির্দেশে অতি সক্রিয়তা পুলিশের, উদ্বেগে আসানসোল-দুর্গাপুরের বাসিন্দারা
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: নির্বাচনি আবহে আইনি ক্ষমতা এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে। তাতেই যে একতরফা কাজকর্ম হচ্ছে, তাতে রাজ্যে পালাবদল হলে কী হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আসানসোল দুর্গাপুর শহরে। এসআইআরে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার নামে নতুন নতুন নির্দেশ জারি করছে পুলিশ। ভোটের দিন প্রয়োজনে বাইরে না বেরনোর নিদান দেওয়া হচ্ছে। তেমনি বিজেপির অভিযোগ পেলেই পুলিশ অতি সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ। বিজেপির এই আগ্রাসন ভালো ভাবে নিচ্ছে না আসানসোল, দুর্গাপুরের শান্তিপ্রিয় নাগরিকরা। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে দু’টি শহরে খুব বেশি রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটেনি। তারপরও কেন অতি সক্রিয়তা, উঠছে প্রশ্ন। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কমিশনের হাতে সাময়িক ক্ষমতা গেলেই যদি এই পরিস্থিতি হয়, তাহলে ক্ষমতা বদল হলে সাধারণ মানুষের কী হবে। দীর্ঘদিন ধরেই রক্তদান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত আসানসোলের বাসিন্দা অসীম সরকার। তিনি বলেন, সমাজসেবী থেকে সাধারণ মানুষ, সবাই তো রাজনীতি সচেতন। আমার কোনো প্রার্থীকে ভালো লাগতেই পারে। তাতেই যেভাবে প্রছন্ন হুমকি আসছে তা একেবারেই কাম্য নয়। আমাদের শহরকে ভাতৃত্বের শহর বলা হয়। সেই পরিবেশ থাকা প্রয়োজন। আসানসোল বিসি কলেজের কলেজের অধ্যক্ষ ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় বলেন, সাধারণ মানুষের অধিকারকে, কণ্ঠকে সংকুচিত করা হচ্ছে। 

Advertisement

অমিত শাহের রোড শোয়ের পর বাঁকুড়া মোড় এলাকায় তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ হয়। দু’ পক্ষের বিরুদ্ধেই বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। দু’ পক্ষের একাধিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির কথায় পুলিশ এমন ভাবে মামলা সাজিয়েছে যাতে বিজেপি কর্মীরা জামিন পেয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের একজনের জামিন হয়নি। এমনকী স্থানীয় তৃণমূল ব্লক সভাপতি শিফুল সাহার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছে। তিনি প্রচার করতে পারছেন না। তৃণমূল রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু বলেন, পুলিশ বিজেপির কথা অনুযায়ী মামলা করছে। আমাদের ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তারপরও ওরা তৃণমূলকে আটকাতে পারবে না। বিজেপি জেলা মুখপাত্র মদন চৌবে বলেন, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করুক। সাধারণ মানুষ এটাই চায়।
আসানসোল উত্তর থানার পাঁচগাছিয়া এলাকা। এই এলাকাতেই বাড়ি বারাবনির বিদায়ী বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়ের। পতাকা লাগানো নিয়ে অশান্তির ঘটনায় বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিধায়কের ভাই মুকুল উপাধ্যায় সহ ন’ জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করেছে। গ্রেপ্তার হওয়ার মহম্মদ কৌশর আনসারির স্ত্রী হামিদা বিবি বলেন, আমার স্বামী কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নয়। ‘বোন টিবি’ হয়েছে ওঁর। পুলিশ বাড়ি থেকে ওঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গিয়েছে। বারাবনির তৃণমূল প্রার্থী বিধান উপাধ্যায় বলেন, পুলিশ বিজেপির নির্দেশে কাজ করছে। কর্মীদের বলেছি কোনো প্ররোচনায় পা না দিতে। হার নিশ্চিত বুঝেই ওরা এমন করছে। আসানসোল উত্তর বিধানসভা এলাকাতেও তৃণমূল পার্টি অফিসে ঢুকে লাঠিপেটা করে তৃণমূল কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ