নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: আমানতকারীদের বিশ্বাস অর্জন করতে লোকসভার বিল নকল করেছিল প্রতারকরা। বিলের মাধ্যমে তাদের কারবার চালানোর অনুমতি রয়েছে বলে বোঝানো হয়েছিল। কী কী শর্ত দিয়ে লোকসভায় তাদের জন্য বিল পাশ করা হয়েছে, সেটা তারা অ্যাপের মাধ্যমেই ব্যাখা করেছিল। বিভিন্ন সময় সরকারি নানা ভুয়ো নথি দেখিয়ে তারা নিজেদের বৈধ বলে দাবি করে। তারা মাঝেমধ্যে আবার বিভিন্ন প্রতারণার ধরন নিয়েও বিনিয়োগকারীদের সতর্কও করত। বিভিন্ন অ্যাপ প্রতারণার জাল ছড়াচ্ছে বলে সচেতন করত। তাতে তাদের সম্পর্কে লগ্নিকারীদের ধারণা আরও স্বচ্ছ হয়ে উঠেছিল। এভাবেই বিনিয়োগকারীদের মগজ ধোলাই করে তারা আট থেকে ন’মাসের মধ্যে কয়েকশো কোটি টাকা প্রতারণা করে। এখন এই অ্যাপ আর কাজ করছে না। আমানতকারীরা বর্ধমানের সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। কয়েকজনকে ডেকে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তাদের মাধ্যমে চক্রের মাস্টার মাইন্ডদের কাছে তারা পৌঁছতে চাইছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নীলপুরের এক বাসিন্দা পূর্ব বর্ধমান জেলায় এই অ্যাপ নিয়ে প্রথম প্রচার করে। তিনিই প্রথম আমানতকারীদের অ্যাপে জয়েন করান। তারা আবার অন্যান্যদের জয়েন করান। চেন সিস্টেমে এই কারবার চলতে থাকে। প্রথম দিকে যাঁরা জয়েন করেছিলেন, তাঁরা মোটা অঙ্কের টাকা লাভ করেছেন। নীলপুরের ওই ব্যক্তির অ্যাকাউন্টেও মোটা অঙ্কের টাকা গিয়েছে। অন্যান্যদের যোগদান করানোর জন্য তাঁরা আলাদাভাবে কমিশনও পেয়েছেন। ওই ব্যক্তি পুলিসকে জানিয়েছেন, পূর্ব মেদিনীপুরের একজন তাকে ওই অ্যাপের হদিশ দিয়েছিল। তার মাধ্যমেই তিনি পূর্ব বর্ধমানে ওই অ্যাপ নিয়ে কারবার শুরু করেন। সেই সময় তাঁর সঙ্গে আরও তিন চারজন যুক্ত হয়েছিলেন। তাঁরা ফায়দা তুললেও বাকি আমানতকারীরা সর্বস্বান্ত হয়েছেন। পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।



