Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিশ্বাস অর্জন করতে লোকসভার বিল নকল করে পোস্ট, মাস্টারমাইন্ডকে ধরতে মরিয়া পুলিস

আমানতকারীদের বিশ্বাস অর্জন করতে লোকসভার বিল নকল করেছিল প্রতারকরা।

বিশ্বাস অর্জন করতে লোকসভার বিল নকল করে পোস্ট, মাস্টারমাইন্ডকে ধরতে মরিয়া পুলিস
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৭:০৯
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: আমানতকারীদের বিশ্বাস অর্জন করতে লোকসভার বিল নকল করেছিল প্রতারকরা। বিলের মাধ্যমে তাদের কারবার চালানোর অনুমতি রয়েছে বলে বোঝানো হয়েছিল। কী কী শর্ত দিয়ে লোকসভায় তাদের জন্য বিল পাশ করা হয়েছে, সেটা তারা অ্যাপের মাধ্যমেই ব্যাখা করেছিল। বিভিন্ন সময় সরকারি নানা ভুয়ো নথি দেখিয়ে তারা নিজেদের বৈধ বলে দাবি করে। তারা মাঝেমধ্যে আবার বিভিন্ন প্রতারণার ধরন নিয়েও বিনিয়োগকারীদের সতর্কও করত। বিভিন্ন অ্যাপ প্রতারণার জাল ছড়াচ্ছে বলে সচেতন করত। তাতে তাদের সম্পর্কে লগ্নিকারীদের ধারণা আরও স্বচ্ছ হয়ে উঠেছিল। এভাবেই বিনিয়োগকারীদের মগজ ধোলাই করে তারা আট থেকে ন’মাসের মধ্যে কয়েকশো কোটি টাকা প্রতারণা করে। এখন এই অ্যাপ আর কাজ করছে না। আমানতকারীরা বর্ধমানের সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। কয়েকজনকে ডেকে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তাদের মাধ্যমে চক্রের মাস্টার মাইন্ডদের কাছে তারা পৌঁছতে চাইছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নীলপুরের এক বাসিন্দা পূর্ব বর্ধমান জেলায় এই অ্যাপ নিয়ে প্রথম প্রচার করে। তিনিই প্রথম আমানতকারীদের অ্যাপে জয়েন করান। তারা আবার অন্যান্যদের জয়েন করান। চেন সিস্টেমে এই কারবার চলতে থাকে। প্রথম দিকে যাঁরা জয়েন করেছিলেন, তাঁরা মোটা অঙ্কের টাকা লাভ করেছেন। নীলপুরের ওই ব্যক্তির অ্যাকাউন্টেও মোটা অঙ্কের টাকা গিয়েছে। অন্যান্যদের যোগদান করানোর জন্য তাঁরা আলাদাভাবে কমিশনও পেয়েছেন। ওই ব্যক্তি পুলিসকে জানিয়েছেন, পূর্ব মেদিনীপুরের একজন তাকে ওই অ্যাপের হদিশ দিয়েছিল। তার মাধ্যমেই তিনি পূর্ব বর্ধমানে ওই অ্যাপ নিয়ে কারবার শুরু করেন। সেই সময় তাঁর সঙ্গে আরও তিন চারজন যুক্ত হয়েছিলেন। তাঁরা ফায়দা তুললেও বাকি আমানতকারীরা সর্বস্বান্ত হয়েছেন। পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

Advertisement

এক আমানতকারী বলেন, প্রথমে বলা হয়েছিল দু’হাজার টাকা দিয়ে জয়েন করার পর বিজ্ঞাপন দেখলেই প্রতিদিন ৮০০ টাকা আয় করা যাবে। পরে বলা হল বিভিন্ন ফান্ডে টাকা জমা দিলে কয়েক গুণ অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে। জয়েন করার পরই অ্যাপে একটি মোবাইল ওয়ালেট তৈরি হয়ে যেত। সেই ওয়ালেটে টাকা জমা পড়ছে বলে দেখানো হতো। সেখান থেকে টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু আমনতকারীদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েনি।
আর এক আমানতকারী বলেন, প্রতারকরা বিভিন্ন সময় অশোক স্তম্ভ দেওয়া নথি দেখাত। লোকসভাতে এই অ্যাপের পক্ষে বিল পাশ হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। অ্যাপে অন্যান্য রাজ্যের পুলিস আধিকারিকদের ছবি দেখানো হতো। তারাও এই অ্যাপে বিনিয়োগ করেছে বলে নথি দেওয়া হয়েছিল। এসব কারণের জন্যই ওদের বিশ্বাস করে ফেলেছিলাম। তাছাড়া প্রথম দিকে কয়েকজনকে ওরা টাকা ফেরত দিয়েছিল। কিন্তু আগস্ট মাস থেকে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ