নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: পুলিশের একাধিক পদক্ষেপ সত্ত্বেও কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনা লেগে রয়েছে। কখনও কখনও প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটছে। কীভাবে কমানো যাবে দুর্ঘটনা? সেই উত্তর পেতে এবং সেই মতো পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে এক্সপ্রেসওয়ের ‘রোড সেফটি অডিট’ এবং ‘টেকনিক্যাল এক্সপার্ট অডিট’ করানো হচ্ছে বিশেষজ্ঞ সংস্থা ‘রাইটস’-কে দিয়ে। সরেজমিনে অডিটের কাজ শেষ হলেও তাদের রিপোর্ট এখনও জমা পড়েনি। তবে ইতিমধ্যে এই ব্যস্ত সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে রাস্তার একাধিক কাটআউট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট। সম্প্রতি একটি কাটআউট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। কিন্তু এর ফলে দুর্ঘটনা কমবে কীভাবে? পুলিশের দাবি, তারা খেয়াল করে দেখেছে, বেশ কয়েকটি কাটআউট দিয়ে পথচারী, এলাকাবাসী রাস্তা পারাপার করতে গেলে দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। সেই জন্যই এমন সিদ্ধান্ত।
মঙ্গলবার কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে ঘুরে দেখা গেল, বিভিন্ন জায়গায় রোড ডিভাইডারের কাটআউট থাকায় সেখান দিয়ে ইচ্ছেমতো রাস্তা পারাপার চলছে। সাইকেল, বাইক নিয়েও রাস্তার একদিক থেকে অন্যদিকে যাতায়াত চলছে দেদার। এই জায়গাগুলির মধ্যে বাসুদেবপুর মোড়, ওয়্যারলেস মোড়, বকুলতলা সহ আরও কয়েকটি জায়গাকে দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আন্ডারপাস দিয়ে যাতায়াতের জন্য আবেদন করছে পুলিশ। পথচারীরা যাতে আন্ডারপাস ধরতে বাধ্য হন, তার জন্যই একাধিক কাটআউট পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে খবর। পাশাপাশি, মানুষকে সচেতন করতে ট্রাফিক পুলিশের তরফে মোড়ে মোড়ে প্রচার চলছে নিয়মিত। বছরখানেক আগে মুড়াগাছা মোড় থেকে কাঁপা মোড় পর্যন্ত কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ৩০ কিলোমিটার অংশ ছ’লেনের হয়েছে। এই রাস্তায় গাড়ির তীব্র গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বসানো হয়েছে ক্যামেরা। ইতিমধ্যে কয়েকটি জায়গায় ক্যামেরার সাহায্যে গাড়ির গতি পরীক্ষা করা হচ্ছে। আইন ভাঙলে গাড়ির মালিক বা ড্রাইভারকে পরিবহণ আইন অনুযায়ী মামলা দেওয়া হচ্ছে। বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা বলেন, ‘রাইটস-কে দিয়ে নিয়মিত কলকাতা পুলিশ এলাকায় সমীক্ষা চালানো হয়। আমরা তাদের দিয়ে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের সমীক্ষা করিয়েছি। রিপোর্ট এখনও আসেনি। এলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার আগে কয়েকটি কাটআউট আমরা বন্ধ করে দিচ্ছি। এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেই এটা করা হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত প্রচার চালাচ্ছে। মানুষ সচেতন হলে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসবে।’ নিজস্ব চিত্র