Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আপনার ছবি ব্যবহার হতে পারে প্রতারণায়, ঘিবলি নিয়েও সতর্ক করছেন পুলিসের সাইবার বিশেষজ্ঞরা

আপনার ছবি ব্যবহার হতে পারে প্রতারণায়, ঘিবলি নিয়েও সতর্ক করছেন পুলিসের সাইবার বিশেষজ্ঞরা
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: ‘ঘিবলি’ ট্রেন্ডে ঘায়েল নেট দুনিয়া। ক্যামেরায় তোলা ছবিকে অ্যানিমেশন চরিত্রের রূপ দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসাচ্ছেন নেটিজেনরা। কিন্তু, কোথায় যাচ্ছে আপনার ছবি? কোথায় হচ্ছে স্টোর? কোন অদৃশ্য তৃতীয় ‘ব্যক্তি’ ঘিবলি শিল্পে রূপ দিচ্ছে আপনাকে? তার কোনও হদিশ নেই। সবটাই হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) সহায়তায়। সেখানেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের আশঙ্কা, ‘ট্রেন্ডি নেটিজেনদের’ মুখাবয়ব ব্যবহার করে নতুন করে সাইবার হানার ঘুঁটি সাজাতে পারে জালিয়াতরা। ডার্ক ওয়েবের হাতে যেতে পারে সাধারণ মানুষের ‘মুখ’। এই আশঙ্কাই এবার ঘুম উড়িয়েছে পুলিসেরও। তাই সচেতনতার বার্তার পথে হাঁটতে শুরু করছে সাইবার পুলিস। 

Advertisement

মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজ করছে ‘ঘিবলি’। কি এই ‘ঘিবলি’? এটি জাপানের একটি অ্যানিমেশন শিল্প। রাজধানী টোকিও শহরের কোগানেই এলাকার একটি অ্যানিমেশন স্টুডিওতে এই শিল্পের উৎপত্তি। সম্প্রতি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে এই শিল্পকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় করে তোলা হয়েছে। কীভাবে তৈরি হচ্ছে যে কোনও মানুষের অ্যানিমেশন চরিত্র? আপনার যে কোনও ছবি চ্যাটজিপিটি’র একটি বিশেষ পেজে আপলোড করলে নিমেষে তৈরি হয়ে যাবে ‘ঘিবলি ভার্সন’। চ্যাটজিপিটির পাশাপাশি, একাধিক থার্ড পার্টি অ্যাপও তৈরি হয়ে গিয়েছে নেটিজেনদের উৎসাহ মেটাতে। সেই অ্যাপগুলিতে রয়েছে বেশ কিছু শর্ত। তাতে সম্মতি জানালে তবে তারা তৈরি করবে আপনার ‘ঘিবলি’। সাইবার বিশেষজ্ঞদের কথায়, প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ সেই শর্তাবলী পড়েন না। ফলে থার্ড পার্টি অ্যাপগুলি আম জনতার ছবি স্টোর করে রাখছে। পরে সেই ছবি কাজে লাগিয়েই হতে পারে সাইবার অপরাধ। 
সাইবার বিভাগ সূত্রে খবর, আগে মোবাইলে স্ক্রিন রেকর্ডার অন করে সেক্সটরশনের ভয় দেখাত প্রতারকরা। সেখানেও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বের করে নেওয়া হত প্রতারিতের মুখের ছবি। এখানেও একইভাবে মুখের ছবি থার্ড পার্টি অ্যাপগুলি ডার্ক ওয়েবে চড়া দামে বিক্রি করে দিতে পারে। এমনই আশঙ্কা করছে সাইবার বিভাগ। সেক্ষেত্রে ‘ডিপফেক’এর মাধ্যমে একজনের মুখ ব্যবহার করে প্রতারণা চালাতে পারে জালিয়াতরা। অশ্লীল ভিডিও বা ছবি বানিয়ে টাকা আদায়ের ফাঁদও তৈরি করতে পারে তারা। এখানেই শেষ নয়! সোশ্যাল মিডিয়ার এই ট্রেন্ডকে কাজে লাগিয়েই নতুন কোনও প্রতারণার ধরণ তৈরি করা সহজ কাজ বলেই দাবি করছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। মেটা জানাচ্ছে, প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ার এই নয়া ট্রেন্ডে শামিল হচ্ছেন। এই পরিসংখ্যানেই কার্যত ঘুম উড়েছে পুলিসের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ