Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুলিস-দুষ্কৃতীদের রুদ্ধশ্বাস রেষারেষি, শক্তিগড়ে যেন হিন্দি সিনেমার শ্যুটিং

পুলিস-দুষ্কৃতীদের রুদ্ধশ্বাস রেষারেষি, শক্তিগড়ে যেন হিন্দি সিনেমার শ্যুটিং
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ১০:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শক্তিগড়: গ্রামের সংকীর্ণ রাস্তা ধরে দ্রুত গতিতে আসছে পিকআপ ভ্যান। বাইক চালিয়ে ধাওয়া করছেন সিভিক ভলেন্টিয়ার। খবর দেওয়া হয়েছে শক্তিগড় থানায়। ছুটছে পুলিসের গাড়িও। হঠাৎ করেই পড়ে গেল রেলগেট। ওপারে দুষ্কৃতীদের পিকআপ ভ্যান। এপারে পুলিসের গাড়ি। মাঝে রেলপথ দিয়ে চলে গেল ট্রেন। এপারে পুলিস অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে। ঠিক যেমন সিনেমায় দেখা যায়, তেমনভাবেই ট্রেন যাওয়ার পর পুলিস রেলগেট পেরিয়ে ওপারে পৌঁছল। ততক্ষণে দুষ্কৃতীরা গাড়ি ঘুরিয়ে গতি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সামনে ট্রাক্টর বা অন্য কিছু এলেও তারা তোয়াক্কা করছে না। একের পর এক গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে তারা কালনা রোড ধরেছে। পুলিসের গাড়ি কিছুটা ধাওয়া করার পর আর দুষ্কৃতীদের দেখা পেল না। কোথায় যেন উধাও হয়ে গেল পিকআপ ভ্যানটি। বুধবার রাতে এমনই রোমাঞ্চকর দৃশ্যর সাক্ষী থাকল শক্তিগড়ের হীরাগাছি গ্রাম। 

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে আর এক কাহিনী। মঙ্গলবার দুপুরে অপরিচিত পাঁচজন এসে হীরাগাছির কোয়াক ডাক্তার বিনয়কৃষ্ণ হালদারের বাড়ি ভাড়া নেয়। ওই কোয়াক ডাক্তার ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকায় বাড়ি ভাড়া দেয়। কিন্তু আগন্তুকরা ৪৮০০ টাকা ভাড়া দিতে চাওয়ায় তিনি আর কোনও কিছু ভাবনাচিন্তা করেননি। ভোটার বা আধার কার্ড না দেখেই বাড়িভাড়া দেন। পুলিস এদিন ওই কোয়াক ডাক্তারকে ডেকে জেরা করে। তিনি বলেন, শক্তিগড়ের এক বাসিন্দা তাঁর কাছে ভাড়াটিয়াদের এনেছিলেন। দুপুরে তারা বাড়িতে ঢুকে যান। কিন্তু কারও কাছে তিনি কোনও নথি নেননি। স্থানীয়রা বলেন, ওই পাঁচজনকে দেখে এলাকার বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। তাদের প্রত্যেকের পিছনে বড় ব্যাগ ছিল। পিকআপ ভ্যানের নম্বর ছিল রাজস্থানের। হিন্দি ভাষায় কথা বলছিল। সন্দেহ হওয়ার কারণে গ্রামের এক বাসিন্দা সিভিক ভলেন্টিয়ারকে খবর দেয়। তিনি তাদের কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চান। তারা জানায়, সবকিছু বাড়ির মালিককে দেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ পর তারা পরিচয়পত্র দেখাতে পারবে। ওই সিভিক ভলেন্টিয়ার বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। সেই সময় ওই পাঁচজন পিকআপ ভ্যানে চড়ে চম্পট দেয়। তাদের ধাওয়া করেও পুলিস নাগাল পায়নি।
 পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পুলিস এই ঘটনায় একজনকে আটক করে জেরা করেছে। তার বাড়ি শক্তিগড়ে। শ্বশুড়বাড়ি হুগলির পাণ্ডুয়ায়। তিনি পুলিসকে জানিয়েছেন, ওই পাঁচজন গোরু কেনা-বেচার ব্যবসা করে বলে জানিয়েছিল। যদিও তারা কেন পালিয়ে গেল সেই উত্তর তিনি দিতে পারেননি। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে তারা এসেছিল। অনেক সময় বাইরের দুষ্কৃতীরা এভাবেই বাড়ি ভাড়া নিয়ে ডাকাতি বা অন্য অপরাধ করে থাকে। গোরু চুরি করার রেকর্ডও রয়েছে। এক্ষেত্রেও তেমন সম্ভবনা ছিল। পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 
 শক্তিগড়ের সেই বাড়ি। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ