Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামে নাবালক ছেলেমেয়েদের প্রেম করে পালানোর হিড়িক, জেরবার পুলিস

প্রেম করে নাবালিকাদের বাড়ি ছেড়ে পালানোর ঠেলায় জেরবার ঝাড়গ্রাম জেলার পুলিস। জেলার প্রতিটি থানায় প্রতি মাসেনাবালিকা পালানোর পাঁচটি করে অভিযোগ জমা পড়ছে।

ঝাড়গ্রামে নাবালক ছেলেমেয়েদের প্রেম করে পালানোর হিড়িক, জেরবার পুলিস
  • ১০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: প্রেম করে নাবালিকাদের বাড়ি ছেড়ে পালানোর ঠেলায় জেরবার ঝাড়গ্রাম জেলার পুলিস। জেলার প্রতিটি থানায় প্রতি মাসেনাবালিকা পালানোর পাঁচটি করে অভিযোগ জমা পড়ছে। উদ্ধার হওয়া প্রেমিকারা আদালতের মধ্যেই পুলিসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছে। পুলিস কেন প্রেমে বাধা দেবে,সেই প্রশ্ন তুলছে। 

Advertisement

পুলিসের পাশাপাশি উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও। চোখে চোখে রাখলেও মোবাইলের যুগে কিছুই ধরা যায় না।স্কুলে কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার নাম করেউধাও হয়ে যাচ্ছে। মেয়ের খোঁজে বাবা-মারা থানায় গিয়ে হাজির হচ্ছেন। নাবালক ছেলেমেয়েদের বাবা-মারা আবার অন্য বিড়ম্বনায় পড়েছেন।প্রেমিকের বাড়ি  ঢুকেই নাবালিকারা ‘আমি আপনাদের বউমা’বলে পরিচয় দিচ্ছে। অভিভাবকরা যা শুনে হতচকিত!ছেলে ও তার প্রেমিকার বড় কোনও কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলার আশঙ্কায় সিঁটিয়ে যাচ্ছেন। জেলার বিভিন্ন থানার পুলিসও নাবালিকাদের উদ্ধার করতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনায় মধ্যে পড়ছেন। নাবালক প্রেমিকের বাড়িতে খোঁজ করতে গেলে প্রেমিক-প্রেমিকা উধাও হয়ে যাচ্ছে।  মাসি, পিসি থেকে খুড়তুতো দাদা দিদি ও  দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে খোঁজ চালাতে হচ্ছে। উদ্ধারের পরেও ভোগান্তি থামছেনা। আদালতের মধ্যেই প্রেমিকারা পুলিসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছে। প্রেমিকের হয়েই কথা বলছে। উল্টে পুলিস কেন তাদের প্রেমে বাধা দিচ্ছে, তা নিয়ে তর্কাতর্কি জুড়ে দিচ্ছে। জামবনী থানার এক পুলিস কর্তা বলেন, বাড়ি থেকে পালানো মেয়ের বাবা-মায়েরা থানায় এসে বলছেন, মেয়েক উদ্ধার করে দিন। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে গিয়ে সন্ধান চালাতে হচ্ছে। উদ্ধারের কাজে এক গ্ৰাম থেকে অন্য গ্ৰামে ঘুরে ঘুরে হয়রান হতে হচ্ছে। আদালতেনিয়ে যাওয়া হলে নাবালিকা আবার প্রেমিকের হয়েই সাফাই গাইছে। স্বেচ্ছায় পালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে। সবদিক থেকে পুলিসকে  বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। গোপীবল্লভপুর থানার এক পুলিস অফিসার বলেন, জেলা প্রশাসনের তরফে স্কুলছুট ছাত্রছাত্রীদের তথ্য জানানোর নির্দেশ রয়েছে। স্কুলছুটের বড় কারণ, প্রেমের টানে নাবালক নাবালিকাদের বাড়ি ছেড়ে পালানো। নবম , দশম ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের মধ্যে বাড়ি থেকে পালানোর প্রবণতা বেশি। জামবনী ব্লকের কাপগাড়ির বাসিন্দা তারক বারিক বলেন,ছেলেমেয়েরা অল্প বয়স থেকেই প্রেমে পড়ে যাচ্ছে। উদ্ধারের পর মেয়েকে এলাকার স্কুলের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করিয়েছি। পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য বার বার বোঝাচ্ছি।  বিনপুরের এক অভিভাবক বলেন, ছেলের বয়স এখনও ১৮ পার হয়নি। বাড়িতে হঠাৎ একদিন অল্পবয়সি একটি মেয়ে এসে হাজির। সপ্রিতিভভাবেই  সেই মেয়ে জানাল, আমাদের বাড়িতে এখন থেকে সে ছেলের বউ হয়ে থাকবে। ছেলের দিকে তাকিয়ে বুঝলাম, তারও একই ইচ্ছে। আমি ও আমার স্ত্রী হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। অনেক বুঝিয়ে মেয়েটিকে বাড়ি পাঠাই। ঝাড়গ্রাম জেলার ডিআই শক্তিভূষণ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, পড়ুয়াদের মধ্যে বাল্যবিবাহের কুপ্রভাব নিয়ে সচেতনতা প্রচারে জোর দেওয়া হয়েছে।শিক্ষক শিক্ষিকারা পড়ুয়াদের সচেতন করছেন। বাবা-মায়েদেরও এই বিষয়ে সজাগ হতে হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ