Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কলকাতা-শহরতলিতে অভিযান পুলিশের, ভুয়ো শংসাপত্রের খোঁজে দিনভর তল্লাশি শ্মশানেও

কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় ভুয়ো জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের খোঁজে পুলিশি অভিযান চলছে। প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করছে পুলিশ। বিস্তারিত পড়ুন।

কলকাতা-শহরতলিতে অভিযান পুলিশের, ভুয়ো শংসাপত্রের খোঁজে দিনভর তল্লাশি শ্মশানেও
  • ২৪ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার সকাল, আচমকাই কেওড়াতলা মহাশ্মশানে ঝাঁকে ঝাঁকে পুলিশ! পরে জানা যায়, তৃণমূল আমলে ইস্যু হওয়া জন্ম-মৃত্যুর ভুয়ো শংসাপত্রের খোঁজ পেতেই এই পুলিশি হানা। পাশাপাশি, কলকাতা ও সংলগ্ন জেলার বিভিন্ন পুরসভা ও পঞ্চায়েতে এদিন একযোগে পুলিশি অভিযান চলে। শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখা হয়। বিভিন্ন পুরসভায় থাকা রেকর্ড, রেজিস্টার সহ যাবতীয় নথি নিজেদের হেপাজতে নেয় পুলিশ।

Advertisement

এদিন সকালে কলকাতা পুরসভার ১, ২ ও ১০ নম্বর বরো অফিসে হানা দিয়ে স্বাস্থ্যবিভাগের থেকে ডেথ-বার্থ সার্টিফিকেটের নথিপত্র খতিয়ে দেখেন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা। কর্মীদের মধ্যে হইচই পড়ে যায়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে পুলিশ। পুরসভার কেন্দ্রীয় ভবনে রেকর্ডরুমেও চলে পুলিশি তল্লাশি। জানা গিয়েছে, মূলত এসআইআরের সময়কার ইস্যু হওয়া সার্টিফিকেটগুলির নথিপত্রই নাড়াঘাটা করেছে পুলিশ। পুর-আধিকারিকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জন্ম-মৃত্যুর সার্টিফিকেট সংক্রান্ত সমস্ত রেকর্ডই স্ক্যান ও রেজিস্টার ডিজিটালি সংরক্ষণ করা হবে। বিধাননগর পুরসভাতেও চলে অভিযান। 
এদিন সকালে বারাসত পুরসভায় পৌঁছন এসডিপিও শুভাঙ্গী সুদর্শন কেকান এবং বারাসত থানার আধিকারিকরা। সেখানে পুর-প্রশাসক দেবলীনা সেনের সঙ্গে জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্রের বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক হয়।  মধ্যমগ্রাম, হাবড়া, গোবরডাঙা, দেগঙ্গা, শাসন সহ উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক পুরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকাতেও অভিযান চলে। বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের ১৪টি পঞ্চায়েত, ১৬টি পুরসভা, বারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিসে গিয়েও জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করেছে পুলিশ। বারাকপুরের নগরপাল অমিতকুমার সিংহ বলেন, সরকারের নির্দেশ মতো সমস্ত নথি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ভুল-ত্রুটি থাকলে পরবর্তী নির্দেশ মতো পদক্ষেপ করা হবে। সূত্রের খবর, সমস্ত পাতা স্ক্যান করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করবে পুলিশ। ডিজিটাল ভাবেই সিল করা হার্ডডিস্কের মাধ্যমে একটি কপি দেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। অন্যটি থানায় সংরক্ষিত থাকবে। টিটাগড়, বারাকপুর পুরসভা ছাড়াও পাতুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে অভিযান চলে।
সার্টিফিকেটের তদন্ত চলে বারুইপুরেও। ১৯টি পঞ্চায়েত ও বারুইপুর পুরসভায় যায় পুলিশের টিম। মদারাট পঞ্চায়েত ও পুরসভায় গিয়ে রেজিষ্টার সংগ্রহ করা হয়। কর্মীদের তথ্যও নেয় তাঁরা। রাজপুর সোনারপুর পুরসভার বিভিন্ন অফিস ও জয়নগর মজিলপুর পুরসভায় গিয়েও রেজিস্টার সংগ্রহ করে পুলিশ। কাকদ্বীপ মহকুমার বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েতেও চলে অভিযান।  হাওড়াতেও বৃহস্পতিবার অভিযান চলে। হাওড়া থানার চারটি দল হাওড়া পুরসভা, হাওড়া জেলা হাসপাতাল ও বাঁশতলা শ্মশানঘাটে গিয়ে রেজিস্ট্রার বাজেয়াপ্ত করে। পুলিশ সূত্রের দাবি, গত ১৫ বছরের নথি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত শেষ হলে রেজিস্টারগুলি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফেরত দেওয়া হবে। পুরসভা সূত্রে খবর, ২০২১ সাল থেকে জন্ম ও মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তাই ওই সময়ের পর আর রেজিস্ট্রার খাতা নেই। অন্যদিকে, হুগলির চুঁচুড়া, বৈদ্যবাটি, শ্রীরামপুর সহ একাধিক পুরসভায় চলে অভিযান। প্রায় সমস্ত পুরসভা থেকেই জন্মসংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করে পুলিশ।  তারকেশ্বর পুরসভায় পাঁচজনের একটি দল যায় এদিন। দীর্ঘক্ষণ জন্ম-মৃত্যুর নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়। উলুবেড়িয়া পুরসভায় গিয়ে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র বিভাগের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ। হাওড়া গ্রামীণেও চলে অভিযান। স্বরূপনগরে একাধিক পঞ্চায়েত, বনগাঁ পুরসভা ও বিভিন্ন পঞ্চায়েতে পুলিশ গিয়ে শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখে। অন্যদিকে, কল্যাণী, গয়েশপুর, চাকদহ ও হরিণঘাটা পুরসভা-সহ মহকুমার বিভিন্ন পঞ্চায়েতও বিশেষ অভিযান চলে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ