Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শাসনে বেড়াতে আসা বাইকারদের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান পুলিসের

বারাসতের খড়িবাড়িতে অঘোষিত পর্যটন কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। চারদিকে ভেড়ি, মাঝে গুটিকয়েক চা ও ফাস্টফুডের দোকান।

শাসনে বেড়াতে আসা বাইকারদের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান পুলিসের
  • ৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসতের খড়িবাড়িতে অঘোষিত পর্যটন কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। চারদিকে ভেড়ি, মাঝে গুটিকয়েক চা ও ফাস্টফুডের দোকান। বিকেলের পর ফুরফুরে হাওয়ায় এই জায়গা সময় কাটানোর জন্য আদর্শ। বান্ধবীদের নিয়ে রোমিও’র দল বাইক ছুটিয়ে আসে এখানে। তবে তাদের বাইকের বিকট শব্দে নাজেহাল স্থানীয় মানুষ। এবার তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল শাসন থানার পুলিস। বাইক আটকে মডিফায়েড সাইলেন্সার খুলে আসল সাইলেন্সার বসাল পুলিস। গত মাসে পুলিসের এই অভিযানে ধরা পড়েছে ৫০টির মতো বাইক। সবকটির ক্ষেত্রেই খোলা হয়েছে মডিফায়েড সাইলেন্সার। টাকি রোডের কাচকল মোড় থেকে খড়িবাড়ি-রাজারহাট রোড ঝাঁ চকচকে। এর মধ্যে খড়িবাড়ি থেকে আমিনপুর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তায় কোনও হাম্প বা স্পিডব্রেকার নেই বললেই চলে। খড়িবাড়ির মোড় থেকে কয়েক মিনিট পথ এগলেই পড়বে বাকের মোড়। বাকের মোড়ে রাস্তার দু’ধারে গজিয়ে উঠেছে বেশ কিছু চায়ের দোকান। রাস্তার দু’দিকে যতদূর চোখ যায় শুধুই ভেড়ি। চারদিকে ভেড়ি থাকায় ফুরফুরে হাওয়া বয়। বিকেল হতেই রকমারি আলোয় সেজে ওঠে চায়ের দোকান থেকে ফাস্টফুডের স্টল। বিকেলের দিকে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরাও রাস্তার ধারে বসে যান মাছ বিক্রি করতে। মনোরম পরিবেশের টানে দুপুরের পর থেকে রাত পর্যন্ত খড়িবাড়ির বাকের মোড়ে চা খেতে ভিড় করেন বহু মানুষ। এরমধ্যে অধিকাংশই তরুণ-তরুণী। তাঁরা বাইক নিয়ে আসেন। দত্তপুকুর, দেগঙ্গা, বারাসত, মধ্যমগ্রাম ছাড়াও রাজারহাট, নিউটাউন থেকে কপত-কপতিরা নিরিবিলি সময় কাটাতে আসেন এখানে। অধিকাংশ যুবকের কাছে থাকে দামি বাইক। আর বাইক নিয়ে ‘স্টান্টবাজ’দের নতুন গন্তব্য হয়েছে খড়িবাড়ি-রাজারহাট রোড। ওই দামি বাইকের ভিড়ে নিজেদের আলাদাভাবে চেনাতে ‘মডিফায়েড সাইলেন্সার’ বসানোর হিড়িক পড়ে। এই এলাকায় রয়েছে জনবহুল বাজার, স্কুল, আবাসন। বেশ কয়েকমাস ধরে এইসব বাইকের বিকট শব্দে কান ঝালাপালা হচ্ছিল স্থানীয়দের। বিষয়টি নজরে আসে শাসন থানার পুলিসের। এরপর শুরু হয় খড়িবাড়ি থেকে আমিনপুর পর্যন্ত পুলিসের টহলদারি ও চেকিং। লাইসেন্স, হেলমেট, ইনসিওরেন্স, পলিউশন চেকিং করে চালান কাটার পাশাপাশি বাইকে মডিফায়েড সাইলেন্সার দেখলেই বাইক আটক করে পুলিস। তারপর চালককে দিয়েই আনানো হয় বাইকের আসল সাইলেন্সার। পুলিসের উপস্থিতিতে মডিফায়েড সাইলেন্সার খুলিয়ে আসল সাইলেন্সার বসানো হয়। পুলিস সূত্রে জানানো হয়েছে, গত জুন মাসে প্রায় ৫০ জনের বেশি বাইকারকে এই শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বারাসত পুলিস জেলার সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খরিয়া বলেন, এই সাইলেন্সারের ফলে দুর্ঘটনার প্রবণতা বেড়েছিল। তাই পুলিসের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উইনার্স টিমকে দিয়েও এলাকায় নিয়মিত টহল চালানো হচ্ছে। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ