নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ায় পরপর দুর্ঘটনায় উদ্বিগ্ন জেলা পুলিস। বাঁকুড়া সদর থানার কেঞ্জাকুড়ায় মঙ্গলবার বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় ছাত্রের জখম হওয়ার ঘটনায় পুলিস কর্তারা নড়েচড়ে বসেছেন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সদর থানারই শালবনী এলাকায় দুই যুবকের মৃত্যু ঘটে। ওইদিন বড়জোড়া, হীড়বাঁধ সহ অন্যান্য থানা এলাকায় একাধিক দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন জখম হন। বিষয়টি নিয়ে খোদ বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এব্যাপারে জেলা পুলিসের হোয়টসঅ্যাপ গ্রুপে এসপি কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে বাসের রেষারেষি থামাতে আধিকারিকদের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। জেলাজুড়ে গত কয়েকমাস ধরেই যাত্রী তোলার জন্য বাসের রেষারেষি চলছে। সম্প্রতি তা মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। বাঁকুড়া শহরের বাইপাস রাস্তায় বাস চালকদের দৌরাত্ম্যে অন্যান্য যানবাহন চালক ও পথচারীদের চরম সমস্যা হচ্ছে। এব্যাপারে পুলিস সুপার বলেন, বাস সহ অন্যান্য যানবাহনকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। দুর্ঘটনা কমাতে আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া শহরের গোবিন্দনগর বাসস্ট্যান্ডে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাসগুলি মূলত দু’টি রাস্তা ব্যবহার করে। বাঁকুড়ার বিভিন্ন ব্লক ও ভিনজেলার রুট থেকে শহরে আসা বাসগুলি মূলত সেকেন্ড ফিডার রোড, তামলিবাঁধ, লোকপুর হয়ে বাসস্ট্যান্ডে ঢোকে। বেশিরভাগ বাস ওই স্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে জুনবেদিয়া-সতীঘাট বাইপাস হয়ে শহর ছেড়ে বের হয়। বাঁকুড়া-দুর্গাপুর ও বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়ক এবং জাতীয় সড়কে সবচেয়ে বেশি রেষারেষির ঘটনা ঘটে। তবে তার আগে বাইপাস রাস্তাতেও বাস চালকদের একে অপরকে টেক্কা দিতে দেখা যায়। বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রুটে সবচেয়ে বেশি সরকারি বাস চলে। ওই রুটে বেসরকারি বাসগুলির মধ্যে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা বেশি লক্ষ্য করা যায়। এমনিতেই সরকারি বাসের গতি বেশি থাকে। বাসের স্টপও তুলনামূলক কম। ফলে দ্রুত সরকারি বাস গন্তব্যে পৌঁছে যায়। ফলে বেসরকারি বাসগুলি সরকারি বাসকে টেক্কা দিতে গিয়ে অযথা রেষারেষি করে। বেসরকারি বাসের চালকরা নিজেদের মধ্যেও রেষারেষি করে থাকেন। তার ফলে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বছরে গড়ে ২০০ জন বাঁকুড়ায় দুর্ঘটনার জেরে মারা যান। পাঁচশোরও বেশি দুর্ঘটনা ঘটে। বেপরোয়া বাস ও ট্রাকের ধাক্কায় বাইক আরোহী ও পথচারীর বেশি মৃত্যু হয়। তবে বাইক সহ অন্যান্য ছোট গাড়ির চালকদের ভুলের কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বাসকর্মী সুবল রজক বলেন, জ্বালানির দাম সহ অন্যান্য খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছে। তুলনায় বাসের ভাড়া বৃদ্ধি পায়নি। ফলে যাত্রী সংখ্যা বেশি না হলে বাস চালানো মুশকিল হয়ে পড়ে। সেই কারণে আমরা গতি বাড়িয়ে রেষারেষি বা ওভারটেক করতে বাধ্য হই।
বাঁকুড়ার বাসিন্দা নমিতা গোস্বামী ও অরূপ শীট বলেন, বাইপাস সহ বিভিন্ন রাস্তাতেই যাত্রী তোলার জন্য বাসগুলি রেষারেষি করে। অনেক সময় আবার যাত্রী তোলার জন্য বাসগুলি বিভিন্ন স্টপে দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু, বাসগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ে স্ট্যান্ডে পৌঁছতেই হয়। তখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য বাস চালকরা তাড়াহুড়ো করেন। যে কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিস ও প্রশাসনের বিষয়টি দেখা দরকার।