সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তোলাবাজির অভিযোগে সাসপেন্ড হওয়া দুই পরিবহণ আধিকারিককে ফের আদালতে তুলল পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া আধিকারিকদের জামিনের বিরোধিতা করে শনিবার আসানসোল আদালতে বিস্ফোরক দাবি করে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী অফিসার এসিপি জাভেদ হোসেন বলেন, রামপুর চেকপোস্ট থেকে প্রতি মাসে ২৪ থেকে ৩০ কোটি টাকা তোলাবাজি করা হত। তিন ধরনের এজেন্টদের মাধ্যমে পুরো টাকা তোলা হত। আধিকারিক ছাড়াও আমি যাকে গ্রেপ্তার করেছি সে সাব এজেন্ট। তার মতো দু’শো সাব এজেন্ট রয়েছে গাড়ি থেকে তোলা তোলার জন্য। এই বিপুল টাকা সরকারি ঘরে জমা পড়ত না। আধিকারিকরা টাকা নিত এজেন্টদের মাধ্যমে। এজেন্টদের অধীনে ছিল সাব এজেন্ট তার অধীনে কো এজেন্ট।
অন্যদিকে, অভিযুক্তপক্ষের হয়ে আইনজীবী শেখর কুণ্ডুও এজলাসে ‘বোমা’ ফাটান। মুখ্যমন্ত্রী দুই পরিবহণ আধিকারিক অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায় ও নাজিমূল হকের সাসপেন্ডের কথা বলার সময়ে জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার যে কর বহু দিন আগেই বন্ধ করে দিয়েছে সেই করের নাম করে টাকা তোলা হচ্ছিল। এদিন আইনজীবী শেখর কুণ্ডু বলেন, যে স্পেশাল ফি নেওয়ার অভিযোগে তাঁদের সাসপেন্ড করা হয় সেই কর এখনও রাজ্য জুড়ে নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের ফেসবুক পেজে দুই অভিযুক্তকে সাসপেন্ডের বিষয়টি প্রকাশ্যে এনে তাঁর প্রশাসন যে দুনীর্তির সঙ্গে জিরো টলারেন্স নিয়েছে তা স্পষ্ট করে দেন। তিনি বলেন, এক লরি চালকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ২২ হাজার টাকা চাওয়া হয় এক বিশেষ করের নাম করে। যা আগে থেকেই তুলে দেওয়া হয়েছে। সাসপেন্ড করেছি এবার পুলিশ গ্রেপ্তারও করবে। অতিরিক্ত জেলাশাসক থানায় রামপুর চেকপোস্টে তোলাবাজির অভিযোগ করেন। তারপরই পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। দু’দফায় ছ’দিন পুলিশ নিজেদের হেপাজতে রেখে ছিল ওই অফিসারদের। তবে এদিন ফের তাঁদের আদালতে তোলা হলেও পুলিশ নিজেদের হেপাজতে নেওয়ার আরজি জানায়নি।