সংবাদদাতা, দিনহাটা ও শীতলকুচি: কোচবিহারের শীতলকুচি সীমান্তে উকিল বর্মন নামে ভারতীয় কৃষকের অপহরণ ও বর্তমানে তাঁর বাংলাদেশে বন্দি থাকার ঘটনার পর সীমান্তজুড়ে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। ঘটনার পর একাধিকবার ফ্ল্যাগ মিটিং হলেও এখনও মুক্তি পাননি উকিল বর্মন। রাজ্য পুলিসের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। আগস্ট মাসে বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও সন্দেহজনক গতিবিধি বেড়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে।
এই পটভূমিতে সীমান্তবর্তী চাষিদের নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কোচবিহার জেলা পুলিস ও বিএসএফ। দিনহাটা ও শীতলকুচি সীমান্তে চাষিদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পুলিস ও বিএসএফের শীর্ষ আধিকারিকরা।
বৈঠকে চাষিদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা কাঁটাতারের ওপারে নিজেদের জমিতে চাষ করতে গেলে দলবদ্ধভাবে যান। একা কেউ যেন না যান এবং ভুলবশত আন্তর্জাতিক সীমা অতিক্রম না করেন, সেবিষয়ে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি কোনওরকম সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের উপস্থিতি টের পেলেই তৎক্ষণাৎ পুলিস বা বিএসএফকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে গড়ে ১৫০ গজ দূরে কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। সেই অংশে বহু ভারতীয় কৃষকের জমি আছে, যেখানে তাঁরা নিয়মিত চাষাবাদ করেন। সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ওসব জমিতে চাষ করতে গেলে বিএসএফের অনুমতি ও বিশেষ সময়ে কাঁটাতারের গেট খোলা হয়।
পুলিস আধিকারিকদের বক্তব্য, এই চাষিদের সমস্যা ও সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে বিএসএফের টহলদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে চাষের সময় যাতে বিএসএফ জওয়ানরা কাঁটাতারের ওপাশে উপস্থিত থাকেন, তার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সোমবার দিনহাটা মহকুমার সিতাই সীমান্তে চাষিদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দিনহাটার এসডিপিও ধীমান মিত্র, সিতাই থানার আইসি দীপাঞ্জন দাস এবং বিএসএফের ৭৮ নম্বর ব্যাটালিয়নের আধিকারিকরা। অন্যদিকে, শীতলকুচি ব্লকের কার্জিদিঘি জুনিয়র হাইস্কুল মাঠে আরএকটি বড় বৈঠক হয় এদিন। সেখানে মাথাভাঙার এসডিপিও সমরেন হালদার, সার্কেল ইন্সপেক্টর অজয়কুমার মণ্ডল, শীতলকুচি থানার ওসি অ্যান্থনি হোড়ো ও বিএসএফের ১৫৭ নম্বর ব্যাটালিয়নের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
দিনহাটার এসডিপিও ধীমান মিত্র বলেন, চাষিদের সঙ্গে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। তাঁদের দল বেঁধে ওপারে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং সেই সময়ে বিএসএফ’কে টহল বাড়ানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।



