Bartaman Logo
১৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভোররাতে অভিষেকের বাড়ির তালা ভেঙে তল্লাশি পুলিশের, জমি দুর্নীতিতে আপ্ত সহায়কের খোঁজে হানা, পৌঁছে গেলেন মমতাও

শালবনীর জমি দুর্নীতির তদন্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি। রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। বিস্তারিত পড়ুন।

ভোররাতে অভিষেকের বাড়ির তালা ভেঙে তল্লাশি পুলিশের, জমি দুর্নীতিতে আপ্ত সহায়কের খোঁজে হানা,  পৌঁছে গেলেন মমতাও
  • ১৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও মেদিনীপুর: সরকারি জমি দখল, তারপর প্রভাব খাটিয়ে তার চরিত্র বদলে লক্ষ লক্ষ টাকায় বিক্রি। শালবনী থানায় এই জমি দুর্নীতির অভিযোগ হয় তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে। জেরার সূত্র ধরে বেরিয়ে আসে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের নাম। আর তাঁর খোঁজে মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে শালবনী থানার পুলিশ হানা দেয় অভিষেকের বাড়িতে। শনিবার ভোররাতে। প্রথমে অনুরোধ। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা। তারপর তালা ভেঙে ঢুকে তল্লাশি। ফলে রীতিমতো রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে গেল রাতের কালীঘাটে। গোটা বাড়ি, ছাদ দেড় ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালিয়েও অবশ্য সুমিত রায়কে খুঁজে পায়নি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। যদিও ততক্ষণে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে আরও বাড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা। তবে অভিষেক তদন্ত-অভিযানে সবরকম সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন। পুলিশও তল্লাশিতে কিছু পায়নি বলে ‘নিল সিজার’ নথিও দিয়ে গিয়েছে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডকে। যদিও পুলিশের দাবি, সুমিত ছিলেন কালীঘাটেই। পুলিশেরই কোনো সূত্র থেকে ‘খবর’ পেয়ে পিছনের দরজা দিয়ে তিনি পালিয়েছেন।

Advertisement

জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, পূর্বতন সরকারের জমানায় ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে থাকা বিপুল জমির চরিত্র পরিবর্তন করা হয়েছিল। আর তার বেশিটাই পশ্চিম মেদিনীপুরে। তারপর জাল নথি তৈরি হয়েছিল ভুয়ো মালিকদের নামে। বাস্তবে ‘অস্তিত্বহীন’ সেই জমি মালিকদের জমিই বিক্রি করা হয়েছিল লক্ষ লক্ষ টাকায়। অভিযোগ, এই পুরো সিন্ডিকেটের মাথা প্রাক্তন বিধায়ক তথা পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা। সুজয়বাবু সহ ছ’জনের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়। তদন্তে নেমে একে একে প্রাক্তন এই বিধায়ক এবং যে বিএলএলআরও’র ‘কারসাজি’তে এই জমি দুর্নীতি হয়েছিল, তাঁদের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছায় পুলিশ। তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, জেরায় সুজয় হাজরা জমি জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি তাঁদের রাজনৈতিক বস জানতেন। জমি বিক্রি করে আসা টাকার একটা ভাগ তিনি লাগাতার পাঠিয়ে গিয়েছেন অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে। অ্যাকাউন্টে লেনদেনের পাশাপাশি, নগদও তিনি ক্যামাক স্ট্রিটে পাঠিয়েছেন বলে দাবি পুলিশের। তৃণমূলের ওই প্রাক্তন বিধায়কের অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে ২০ লক্ষ টাকা লেনদেনের হদিশ মিলেছে। শুধু জমি নয়, পুলিশের দাবি, বালি পাচারেও জড়িত সুজয় হাজরা। তার ভাগের টাকাও ‘রাজনৈতিক বসে’র কাছে গিয়েছে। 
তদন্তে সুমিতের নাম উঠে আসার পর তাঁর খোঁজ শুরু হয়। পুলিশের দাবি, জমি জালিয়াতির টাকা সুমিতের একাধিক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। সেটাও ২০২১ সাল থেকে।  শুক্রবার জেলা পুলিশের অফিসাররা মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন নিয়ে জানতে পারেন, সুমিত রায় রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। তড়িঘড়ি পাঁচজনের একটি টিম সেখানে রাত আড়াইটে নাগাদ পৌঁছে যায়। কালীঘাট থানায় প্রথমে তারা ডায়েরি করে। তারপর সেখানকার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এমপির কালীঘাটের বাড়ি। ভোর ৩টে থেকে ৫টা পর্যন্ত পুলিশ অপেক্ষা করেছে। কেউ দরজা না খোলায় সিদ্ধান্ত হয়, তালা ভাঙা হবে। সেইমতো বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের টিম ডেকে পাঠানো হয়। গ্যাস কাটার দিয়ে তালা কেটে ভিতরে ঢোকে পুলিশ। 
পরে অভিষেক বলেন, ‘তালা ভেঙে বাড়ি সার্চ করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি রেকর্ড হয়েছে।’ তবে আপ্ত সহায়ক সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। এরপর শ্রীরামপুরের বিবেকানন্দ কলোনিতে সুমিত রায়ের শ্বশুরবাড়িতেও গিয়েছিল পুলিশের টিম। যদিও ফিরতে হয়েছে খালি হাতেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ