Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুলিশি ধরপাকড়, ভয়ে পুরুষশূন্য মাড়গ্রামের খাঁপুর

পুলিশি ধরপাকড়, ভয়ে পুরুষশূন্য মাড়গ্রামের খাঁপুর
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: পুলিশি ধরপাকড়ের জেরে পুরুষশূন্য মাড়গ্রামের খাঁপুর গ্রাম। অন্নপূর্ণা প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে দুই পাড়ার সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা হওয়ার পর গ্রামের অধিকাংশ যুবকই বাড়ি ছেড়েছেন। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্তদের খোঁজে এসে একাধিক বাড়ির দরজা, জানালা ভাঙুচুরের অভিযোগ তুলেছেন গ্রামের মহিলারা। এক মহিলা সহ দু’জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এনিয়ে গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে হল দশ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের খোঁজে বাড়ি বাড়ি যাওয়া হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু ভাঙচুরের অভিযোগ ভিত্তিহীন। 
বুধবার রাতে খাঁপুর গ্রামে অন্নপূর্ণা প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে কোনাইপাড়ার সঙ্গে মালপাড়ার সংঘর্ষ হয়। পুলিশের সামনেই দু’পক্ষের হাতাহাতি থেকে ইটবৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। ঘটনায় এক সিভিক ভলান্টিয়ার সহ বেশ কয়েকজনের মাথা ফেটে যায়। পরে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। রাতেই ঘটনায় দু’পক্ষের আটজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রামপুরহাট আদালতের নির্দেশে তারা জেল হেফাজতে রয়েছে। চাপা উত্তেজনা থাকায় দুই পাড়াতেই পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়ের ফলে পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে গোটা গ্রাম। গ্রামে থমথমে অবস্থা। 
গ্রামের বাসিন্দাদের অধিকাংশই দিনমজুর ও চাষাবাদের সঙ্গে যুক্ত। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন গৃহবধূরা। বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্তদের খোঁজে পুলিশ এসে একাধিক বাড়িতে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ তুলেছেন গ্রামের মহিলারা। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত সাড়ে ১০টা থেকে বাড়ি বাড়ি অভিযান শুরু করে পুলিশ। অভিযোগ, গ্রামের অর্জুন মণ্ডলের খোঁজে তাঁর বাড়ির দরজা ভেঙে ঢুকে চাল ও খাদ্যসামগ্রী ফেলে দেয় পুলিশ। তখন বাড়িতে কেউ ছিল না। রুমা মণ্ডলের বাড়ির জানালা ভেঙে দেওয়া হয়। উকিল মণ্ডলের বাড়ির দরজা ভেঙে দিয়েছে। এই সমস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁদের বাড়ির পুরুষ সদস্যরা নির্দোষ। তারপরও পুলিশ তাঁদের খোঁজে বাড়িতে এসে না পেয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে। এলাকার বাসিন্দা কবিতা মণ্ডল বলেন, এইসময় ধান ঝাড়াই সহ মাঠে সবজি চাষের মরশুম। অনেকের ধান উঠানে পড়ে রয়েছে। বহু পরিবার বাড়ি তালাবন্ধ করে অন্যত্র চলে গিয়েছে। সেইসব বাড়িতে থাকা গবাদি পশুরা ঠিকমতো খাবার পাচ্ছে না। অনেক বাড়িতে বয়স্ক ও অসুস্থ  মানুষ রয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক। এদিন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা গ্রামে এসে বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করেন। 
যদিও পুলিশ জানিয়েছে, এঘটনায় ৪২জন অভিযুক্তের নামে এফআইআর হয়েছে। তারমধ্যে এখনও পর্যন্ত দশজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যাঁরা অভিযুক্ত নন তাঁরা গ্রামে ফিরতে পারেন। যারা অভিযুক্ত তাদের ধরতে অভিযান জারি থাকবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ