Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অটোয় কিশোরীর যৌন হেনস্তা, ছবি এঁকে চালককে পাকড়াও করল পুলিস

ঘটনাস্থলে সিসি ক্যামেরা ছিল না। অন্যান্য প্রযুক্তিও কাজে লাগেনি।

অটোয় কিশোরীর যৌন হেনস্তা, ছবি  এঁকে চালককে পাকড়াও করল পুলিস
  • ২৫ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘটনাস্থলে সিসি ক্যামেরা ছিল না। অন্যান্য প্রযুক্তিও কাজে লাগেনি। নাবালিকার যৌন নির্যাতনের ঘটনা কিনারা করতে পুরনো পন্থায় ফিরল ঠাকুরপুকুর থানা। নির্যাতিতার বয়ানের ভিত্তিতে অভিযুক্তের ছবি এঁকে তার ভিত্তিতে তিনদিনের মধ্যে গ্রেপ্তার করলেন তদন্তকারীরা। অটোর মধ্যে কিশোরীর যৌন হেনস্তার অভিযোগে ধৃত চালকের নাম শেখ সেলিম ওরফে কানা কার্তিক। সে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানা এলাকার বাসিন্দা।

Advertisement

১৯ মার্চ ঠাকুরপুকুর থানা এলাকায় রাত ন’টা নাগাদ টিউশন পড়ে বাড়ি ফিরছিল ১৫ বছরের কিশোরী। ফেরার পথে অটোর মধ্যে আর কোনও যাত্রী ছিলেন না। তারাতলা থেকে ঠাকুরপুকুর বাজার পর্যন্ত রুটের অটোটি একটি ফাঁকা গলিতে নিয়ে যায় শেখ সেলিম। রুটের বাইরে সেখানে কেন নিয়ে যাওয়া হল? প্রশ্ন করে কিশোরী। তাকে অভিযুক্ত জানায়, কিছু খাবার কেনার জন্য গলিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভিযোগ, এরপরেই অসৎ উদ্দেশ্যে অটোর পিছনের আসনে উঠে আসে চালক। সেখানে একাকী ছাত্রীর সঙ্গে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করে সে। কিশোরী আর্তনাদ করতে শুরু করলে তাকে ফেলে দিয়ে অটো নিয়ে চম্পট দেয় সেলিম। 
রাতে বাড়ি ফিরে মাকে গোটা ঘটনাটি জানায় নাবালিকা। এরপরে ওইদিন রাতেই ঠাকুরপুকুর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানান নির্যাতিতার মা। তার ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও পকসো আইনে মামলা রুজু করে পুলিস। তদন্তে নেমে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উর্দিধারীরা। কিন্তু ঘটনাস্থলে কোনও সিসি ক্যামেরা ছিল না। আশপাশের কয়েকটি দোকানের ক্যামেরার খতিয়ে দেখে অটোটিকে দেখতে পান তদন্তকারীরা। কিন্তু, সেটির নম্বরপ্লেট চিহ্নিত করা যায়নি। পুলিস জানতে পারেন, ওই অটোটির তথ্য ঠাকুরপুকুর থেকে তারাতলা রুটের খাতায়-কলমে নথিভুক্ত ছিল না। ফলে সেখানেও তদন্তে বেগ পেতে হয় পুলিসকে। রুটের চালকরাও কেউ অভিযুক্তের সন্ধান দিতে পারেননি। 
শেষমেশ শনিবার লালবাজার থেকে একজন স্কেচ আর্টিস্টকে ডাকা হয় ঠাকুরপুকুর থানায়। সেখানেই অভিযুক্তের মুখের বর্ণনা দেয় নির্যাতিতা। অভিযুক্তের বাঁদিকের চোখে সমস্যা রয়েছে। কিশোরীর বয়ান শুনে আঁকায় সেই চোখও প্রায় মিলিয়ে দেন শিল্পী। দুই চোখের পাশের খাঁজও মিলে যায়। সেই স্কেচ দেখানো হয় ডায়মন্ডহারবার রোডের উপরের সবকটি চায়ের দোকান, অটোচালকদের। দেড়দিনের মাথায় এক অটোচালকই অভিযুক্তের হদিশ দেন। তাঁর কথায়, অভিযুক্তের নাম কানা কার্তিক। মূলত সন্ধ্যা বেলাতেই অটো চালায় সে। কলকাতা পুলিসের ডেপুটি কমিশনার (সাউথ-ওয়েস্ট) রাহুল দে বলেন, রুটে নথিভুক্ত না করিয়ে অটো চালাত। বিষ্ণুপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্তকে এদিন বিশেষ পকসো আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ২ এপ্রিল পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানেই টিআই প্যারেড হবে। পাশাপাশি, নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দির নির্দেশ মঞ্জুর করেছেন বিচারক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ