Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬

আন্দোলনকে ‘হিংসাত্মক’ তকমা দিতে চাইছে পুলিশ, অভিযোগ ককরোচদের, বন্ধ ইন্টারনেট, দোকান-রেস্তরাঁ, প্রতিবাদে সরব আইনজীবীরাও

ককরোচদের আন্দোলনকে হিংসাত্মক বলে প্রমাণ করতে পুলিশ ইট-পাথর জোগাড় করছে। আইনজীবীরাও প্রতিবাদে সামিল। বিস্তারিত পড়ুন।

আন্দোলনকে ‘হিংসাত্মক’ তকমা দিতে চাইছে পুলিশ, অভিযোগ ককরোচদের, বন্ধ ইন্টারনেট, দোকান-রেস্তরাঁ, প্রতিবাদে সরব আইনজীবীরাও
  • ২৪ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ‘রাতের অন্ধকারে ইট, পাথর জোগাড় করে রাখছে পুলিশ। ট্রাকে করে সেসব নিয়ে আসা হচ্ছে। যাতে ককরোচদের আন্দোলনকে হিংসাত্মক বলে প্রমাণ করা যায়।’ বৃহস্পতিবার এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে তাদের আন্দোলন বৃহস্পতিবার ৩৪ দিন পার করেছে। এদিন বিক্ষোভকারীরা মোদি সরকারকে কটাক্ষ করে বলেছে, ‘এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন চলছে। তা সত্ত্বেও কেন্দ্রের ঘুম ভাঙছে না। অবিলম্বে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা গ্রহণ করুন নরেন্দ্র মোদি। না হলে এবার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়েও আন্দোলন শুরু হবে।’ এদিনও আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে, সরকার কথা বলতে চাইলে তাদের যন্তরমন্তরেই আসতে হবে। এর মধ্যেই মোদি সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়ে ‘পুলিশি বর্বরতা’র প্রতিবাদে এদিন দিল্লিতে একজোট হন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরাও। ইন্দিরা জয় সিংয়ের উদ্যোগে এই কর্মসূচি হয়েছে। দেশের অন্যত্রও আইনজীবীদের বিক্ষোভ হয়েছে।

Advertisement

গত ২০ জুলাই ‘ককরোচ’দের সংসদ ভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে তুলকালাম হওয়ার পর থেকে আরও কড়াকড়ি শুরু করেছে পুলিশ। বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে ফের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার দোহাই দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আওতাধীন দিল্লি পুলিশ। পাশাপাশি এদিন ল্যুটিয়েন্স দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখল মোদি সরকার। ফলে দিনভর চরম নাকাল হতে হল সাধারণ মানুষকে। তবে ‘ককরোচ’দের আন্দোলন ঘিরে এদিনও পুরোমাত্রায় বজায় ছিল উত্তেজনা। বৃহস্পতিবার বিকালে যন্তরমন্তরে পুলিশের সঙ্গে ফের একপ্রস্ত ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে আন্দোলনকারীরা। এমনকি একটি ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বিরোধে জড়িয়ে পড়ে ‘ককরোচ’দের একটি অংশ। বৃহস্পতিবার যন্তরমন্তরে গিয়ে দেখা যায়, যুদ্ধ-পরিস্থিতির যে ছবি তৈরি হয়ে রয়েছে, তার বিন্দুমাত্র কোনো পরিবর্তন হয়নি। পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ গোটা চত্বর। দিল্লি পুলিশের একাধিক বড়ো বাস দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে যন্তরমন্তরে প্রবেশ-প্রস্থানের রাস্তা। আরও গার্ডরেলের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে সর্বত্র। যন্তরমন্তর সংলগ্ন এলাকায় উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি করলেও ধেয়ে আসছে পুলিশের প্রশ্ন। পরিস্থিতি থমথমে। নিউ দিল্লি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টার পর প্রধানত কনট প্লেস এবং সংলগ্ন এলাকায় রেস্তরাঁ বা অন্য দোকানপাট খোলা না রাখার নির্দেশ দিয়েছে। 
আন্দোলন চললেও ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দেওয়ার বিশেষ সম্ভাবনা নেই বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, ‘কোনো একজন সরে গেলে সমস্যার সমাধান হবে না। এব্যাপারে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করা হয়েছে। ককরোচদের আন্দোলনে বহিরাগত শক্তির হাত রয়েছে কি না, তা পুলিশ তদন্ত করুক।’ ২০০৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়সীমায় বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী সরকার থাকাকালীন ৪২টি প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডের তালিকাও প্রকাশ করেন সুকান্তবাবু।  আন্দোলনকারীদের বিনামূল্যে খাবার পরিবেশন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ