Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

একাধিক ব্যক্তির উপস্থিতিতে কি প্রৌঢ়া খুন? খুঁজছে পুলিস

একাধিক ব্যক্তির উপস্থিতিতে কি প্রৌঢ়া খুন? খুঁজছে পুলিস
  • ২৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: একের অধিক ব্যক্তি উপস্থিতিতেই বহরমপুরের প্রৌঢ়াকে খুন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই খুনের ঘটনায় মৃতার স্বামী, ছেলে ও বউমাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। তবে ঘটনার দিন মৃতার ছেলে সায়ন দাস বাড়িতে উপস্থিত ছিল না। পুলিস তার মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন খতিয়ে দেখছে। তবে সে নিজের স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য বারবার নিজের বয়ান বদল করছে। এর আগে সে পুলিসকে জানিয়েছিল, ঘটনার দিন সকালে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। মা তাকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু, তার বয়ানের সঙ্গে খুনের ঘটনাক্রম কিছুতেই মেলাতে পারছেন না তদন্তকারী আধিকারিকরা।

Advertisement

বহরমপুর থানার এক আধিকারিক বলেন, প্রৌঢ়াকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই খুনের ঘটনায় একের অধিক ব্যক্তির উপস্থিতি আছে। তবে ঘটনার অনেক আগে থেকেই ছেলের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন অন্যত্র ছিল। তার যদি যোগ না থাকে, তাহলে স্বামী ও পুত্রবধূ মিলেই এই কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আমরা সমস্ত তথ্য প্রমাণ জোগাড় করছি। ওই বাড়ির নীচে যারা ভাড়াটিয়া আছে, তাদের সঙ্গেও কথা বলছি। কী কারণে খুন, তাও জানার চেষ্টা চলছে। 
উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর বহরমপুর শহরের দয়ানগর এলাকায় বাড়ির ঠাকুরঘর থেকে সঞ্চিতা দাসের(৫৪) ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে দেহ উদ্ধার করে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পুলিস তদন্ত শুরু করে। মৃত্যুর পর পরিবার দাবি করে, ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে ভুগছিলেন সঞ্চিতাদেবী। রোগ যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। তবে গত বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ‘হত্যা’ উল্লেখ থাকায় পুলিস খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। প্রথমে সঞ্চিতাদেবীর স্বামী তরুণকুমার দাস, ছেলে এবং ছেলের বউ রিয়া দাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জেরায় তাদের কথায় অসঙ্গতি মেলায় তিনজনকেই পুলিস গ্রেপ্তার করে। পরের দিন আদালতে তুলে পুলিস মৃতার ছেলে ও বউমাকে হেফাজতে নেয়। বিচারক তরুণকে জেলে পাঠায়। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সঞ্চিতাদেবীর স্বামী এবং রিয়া এই খুনের ঘটনার পিছনে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। তবে মাকে খুনের পরিকল্পনায় সায়ন ছিল কি না, তা পুলিস খতিয়ে দেখছে। রিয়ার বাপের বাড়ি রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকায়। বছর দেড়েক আগে নিজের মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ ছেলের সঙ্গে তার বিয়ে দেয় তরুণবাবু। ছেলে তার নতুন বিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে একই বাড়িতে থাকতে শুরু করে। মালদহে কাজ করলেও সায়ন দু’-তিনদিন অন্তর বাড়ি ফিরত। কিছুদিনের মধ্যে সংসারে অশান্তি শুরু হয়। এমনকী সঞ্চিতাদেবীর বিবাহিত মেয়ের সঙ্গেও ওই পরিবারের দূরত্ব তৈরি হয়। অশান্তি এড়াতে তিনিও বাপের বাড়ি যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। মৃতার মেয়ে বলেন, আমি চাই মায়ের মৃত্যুর উপযুক্ত তদন্ত হোক। যে বা যারা প্রকৃত দোষ করেছে, তারা যেন উপযুক্ত শাস্তি পায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ