নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: হাইস্কুলের গণ্ডি পেরয়নি। ক্লাস সেভেনেই থেমে যায় পড়াশোনা। কিন্তু মোবাইল ফোন মেরামতিতে ওস্তাদ। দিনভর মোবাইল ফোন নিয়ে ঘাটাঘাটি। ফাঁসিদেওয়ার সেই মেবাইল মেকার মহম্মদ সইদুল মানি লন্ডারিং সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ। তার কীর্তিতে তাজ্জব গ্রামবাসী থেকে পুলিস অফিসাররা। একইসঙ্গে পুলিসের সন্দেহ, কয়েক বছরের মধ্যে ধৃত ওই যুবক নামে-বেনামে প্রচুর সম্পত্তিও করেছে। সেগুলির খোঁজ চলছে।
বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ফাঁসিদেওয়া ব্লকেত চটহাট-বাঁশগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতের হাগুরাগছে সইদুলের বাড়ি। বাবা নেই। স্ত্রী, দুই ছেলেমেয়ে ও মা’কে নিয়ে সংসার। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তম শ্রেণির পর সইদুল আর পড়াশোনা করেনি। ২০১৮ সালে মোবাইল ফোন মেরামতির কাজ করতে হরিয়ানায় পাড়ি দিয়েছিল সে। সেখান থেকে ফেরার পর বাড়ির কাছে চটহাটে মোবাইল ফোন মেরামতির দোকান দেয়। সঙ্গে ফটোকপি মেশিন বসায়। মোবাইল ফোন মেরামত ও জেরক্সের আড়ালেই সে সারোগেটেড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে মানি লন্ডারিং সিন্ডিকেটের কাছে ভাড়া দিত বলে অভিযোগ।
এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা চাউর হওয়ার পর থেকেই গ্রামবাসীরা বিস্মিত। গ্রামবাসীদের কয়েকজন বলেন, সইদুল মাধ্যমিক পাশও করেনি। মোবাইল ফোন মেরামত ও জেরক্সের দোকান করে সংসার চালাত। সংশ্লিষ্ট দোকানের আড়ালে সে জালিয়াতির জাল বিস্তার করেছিল তা ভাবা যায়নি। মোবাইল চালাতে পটু। সম্ভবত মোবাইল ফোন ঘাটতে ঘাটতে জালিয়াতি চক্রে জড়ায় সে।
পুলিস অফিসারদের একাংশও বলেন, ওই যুবক দেখতে সহজসরল। গ্রামবাসীদের টোপ দিয়ে সারেগেটেড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে, তা মানি লন্ডারিং সিন্ডিকেটে ভাড়া দিয়েছিল বলে অভিযোগ। গ্রামের এমন যুবক এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়াবে তা অকল্পনীয়। প্রাথমিক তদন্তের পর মনে হচ্ছে, সহজে মোটা অঙ্কের টাকা কামানোর লোভেই বিপথে পা বাড়ায়। সম্ভবত বেটিং অ্যাপের মাধ্যমে এমন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়েছে। ইতিমধ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কয়েকজন গ্রামবাসী অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও ষড়যন্ত্রের মামলা রুজু হয়েছে।
গত কয়েক বছরের মধ্যে ধৃত যুবকের সম্পত্তির পরিমাণও বেড়েছে বলে অভিযোগ। পুলিস সূত্রে খবর, ধৃত যুবকের বাড়ি পাকা। নামে-বেনামে বেশকিছু জায়গাজমি কিনেছে বলেও খবর। পুলিস অফিসারার বলেন, মানি লন্ডারিংয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া দিয়ে ছেলেটি প্রচুর টাকা কামিয়েছে। তা দিয়ে জমি কিনেছে বলে জানা গিয়েছে। সেগুলি চিহ্নিত করা হচ্ছে। দার্জিলিংয়ের পুলিস সুপার প্রবীণ প্রকাশ বলেন, সমগ্র ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চেষ্টা করেও ধৃতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ধৃতের আইনজীবী অলোকেশ চক্রবর্তী বলেন, সইদুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন। পুলিস তাকে ফাঁসাচ্ছে।