সংবাদদাতা, ঘাটাল: শীতলা পুজোকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার মাঝরাতে দাসপুরের সাগরপুর থানার সাগারপুরে পুলিস-জনতা খণ্ড যুদ্ধ বেধে যায়। তাতে দুই পুলিস কর্মী সহ অন্তত ৩০জন জখম হয়েছে। পুলিসের গাড়ি ভাঙচুর। এই ঘটনায় পুলিস ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় র্যাফ নামানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিসের লাঠিচার্জে অন্তত ২৫জন গ্রামবাসী জখম হয়েছেন। নিরীহ মানুষকে ঘুম থেকে তুলে রাতে থানায় ধরে নিয়ে গিয়েছে। পুলিসের মারে সৌরভ সামন্ত নামে এক যুবক আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার পিজি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
ঘাটাল মহকুমা পুলিস আধিকারিক অনিমেষ সিংহরায় বলেন, পুলিস লাঠিচার্জ করেনি। ওরা নিজেরাই মারপিট করে জখম হয়। ক্ষিপ্ত জনতা পুলিসের উপর হামলা চালায়। পুলিসের একটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। হামলায় দু’জন পুলিস কর্মী জখম হয়েছেন। মোট ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে পুলিস হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ওই গ্রামে শীতলা পুজো ছিল। প্রত্যেক বছরের মতো এবছরও পুজোর দিন বাজনা সহযোগে শোভাযাত্রা গোটা গ্রাম পরিক্রমা করে। যেহেতু গ্রামের সকলে এই পুজোয় অংশগ্রহণ করেন তাই পাড়ায় পাড়ায় শোভাযাত্রা নিয়ে যাওয়া হয়। প্রতিটি পাড়ায় শোভাযাত্রা কিছুক্ষণ করে থাকে। সেখানে অনেকে নাচানাচি করেন। শোভযাত্রা মন্দিরে ফিরে আসার পর পুজো আরম্ভ হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দিন রাতে গ্রামের একটি পাড়ায় অনেকক্ষণ শোভাযাত্রা আটকে ছিল। তাই পুজোর সময় যাতে অতিক্রান্ত না হয় তারজন্য শোভাযাত্রা তাড়াতাড়ি মন্দিরে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল। সেই সময়েই গ্রামবাসীদের দু’পক্ষের মধ্যে গণ্ডগোল ও হাতাহাতি শুরু হয়। পুলিস খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তখনকার মতো পরিস্থিতি সামাল দেয়। তারপর পুলিস চলে যায়।
পুলিস চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই আবার দু’পক্ষের মধ্যে ঠেলাঠেলি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। অভিযোগ, দ্বিতীয়বার পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছেই লাঠিচার্জ শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শীতলা পুজোর দিনে কেউ কেউ মদ্যপ থাকায় একটু গণ্ডগোল হয়েই থাকে। পুলিস চাইলে সহজেই তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারত। কিন্তু, পুলিস আচমকা লাঠিচার্জ করে। পুলিসের মারে এক যুবক গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে পড়ে যান। তারপরই শুরু হয় পুলিসের সঙ্গে ধস্তাধস্তি। ওই সময়ই এক পুলিস কর্মীর মাথায় আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। সেই সঙ্গে পুলিসের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ঘাটাল মহকুমা পুলিস আধিকারিক, ঘাটাল সার্কেল ইন্সপেক্টর, দাসপুর ও ঘাটাল থানার ওসি সহ বিশাল পুলিস বাহিনী। নামানো হয় র্যাফ। রাতেই ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশকিছু মানুষ ঘটনার অনেক আগেই মন্দির চত্বর ছেড়ে বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। তাঁদের ঘুম থেকে তুলে মারধর করা হয়। বুধবার সকাল থেকেই এলাকায় বিশাল পুলিস বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিস জানিয়েছেন, মদ্যপ অবস্থায় নিজেদের মধ্যে মারপিট শুরু করে গ্রামের কয়েকজন। অশান্তি থামাতে গেলে অকারণেই পুলিসের উপর আক্রমণ করা হয়। ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কয়েকজন গ্রেপ্তার হবে।