নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অজ্ঞাতপরিচয় দেহ শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে দেশজুড়ে বড়ো পদক্ষেপ করল রাজ্য। প্রথাগত প্রদ্ধতিতে অশনাক্ত দেহের ক্ষেত্রে, এবার পুলিশ প্রশাসন ২০১৬ সালের আধার আইনের ৩৩ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে, একজন নাগরিকের আধার বায়োমেট্রিকের গোপন তথ্য কাজে লাগাতে পারবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সুপারিশ মেনে কলকাতাসহ গোটা রাজ্যে অজ্ঞাতপরিচয় দেহ শনাক্তকরণের জন্য এই নতুন আদর্শ কার্যবিধি চালু করল রাজ্য সরকার। উল্লেখ্য, এতদিন আইনি জটিলতার জন্য পুলিশ এই সুযোগ পেত না। ২০১৩-১৪ সালে হেস্টিংস থানা এলাকায় মাছের ড্রামে অজ্ঞাত পরিচয় একজনের দেহ উদ্ধার হয়। কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড শাখার গোয়েন্দারা রাঁচির আঞ্চলিক আধার অফিসে গেলেও তাঁদের খালি হাতে ফিরতে হয়। এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা রাজ্য পুলিশের ডিজিপি, সব জেলার এসপি, ডিএমের পাশাপাশি কলকাতাসহ রাজ্যের বাকি পুলিশ কমিশনারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশিকার কপি পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্যসচিবের পাশাপাশি আধার অধিকর্তাকে। হঠাৎ করে কেন এই আদর্শ বিধি চালু করতে হল দেশজুড়ে? ফেসিয়াল রিকগনেশন, ডিএনএ এবং ফিঙ্গারপ্রিন্টকে কাজে লাগিয়েও পশ্চিমবঙ্গসহ দেশে বিরাটসংখ্যক দেহ অশনাক্ত অবস্থায় থেকে যাচ্ছে। দেশে অপরাধ-তদন্তে গতি আনতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তার কথায়, ‘নিখোঁজ, অজ্ঞাতপরিচয় দেহ শনাক্তের মতো বিষয়ে ভারতের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে পুলিশ-প্রশাসন উদাসীনতা দেখায়। পরিকাঠামো এবং কর্মীসংকটের পাশাপাশি পুলিশের একাংশের সদিচ্ছার অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’ঠিক কী বলা হয়েছে ওই আদর্শ কার্যবিধিতে? প্রথমত, আধার আইনের ৩৩ নম্বর ধারা কঠোরভাবে মেনে, অধার ডেটাবেসে থাকা বায়োমেট্রিকের গোপন তথ্য কাজে লাগাতে হবে। দ্বিতীয়ত, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে অশনাক্ত দেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ডিএনএ নমুনা প্রভৃতি সংগ্রহ করতে হবে। তৃতীয়ত, বিভিন্ন কোণ থেকে মৃতদেহের মুখের হাই রেজোলিউশন ফটোগ্রাফ নিতে হবে। চতুর্থত, সেই ছবি গোটা দেশের পুলিশের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে সিসিটিএনএস মাধ্যমে। দেহ উদ্ধারের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তা অশনাক্ত রয়ে গেলে, সংশ্লিষ্ট জেলার এসপিকে রাজ্যের স্টেট পুলিশ নোডাল অফিসারকে বিস্তারিত তথ্যসহ রিপোর্ট পাঠাতে হবে। এই নোডাল অফিসারই খুঁটিয়ে দেখে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যুগ্ম সচিবকে আধার আইনের ৩৩ নম্বর ধারা তাতে প্রয়োগের সুপারিশ করতে পারবেন।



