নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: দোল পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে জেলাজুড়েই বিভিন্ন থানা এলাকায় আঁটোসাঁটো নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে মদ্যপদের ঠেকাতে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে কড়া হচ্ছে পুলিস প্রশাসন। বিগত সাতদিনে ট্রাফিক নিয়ম ভাঙার জন্য প্রায় দু’হাজারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দোলের দিন পর্যটকদের ভিড় সামলানোর জন্য বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে নবদ্বীপ ও মায়াপুর সংলগ্ন এলাকায়। সেখানে মোতায়েন থাকছে অতিরিক্ত পুলিস ফোর্স। ডিএসপি, ইন্সপেক্টর সহ শতাধিক কনস্টেবল থাকবে। পাশাপাশি কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার প্রতি থানা এলাকায় অতিরিক্ত ২৫০ কনস্টেবল দেওয়া হচ্ছে। যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা যায়। দোলের সারাদিন প্রতিটি থানা এলাকায় টহলদারি করা হবে।
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, ‘দোলপূর্ণিমা উপলক্ষ্যে সমস্তরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি থানা এলাকায় পুলিসি টহলদারি থাকবে সারাদিন। পাশাপাশি জেলাজুড়ে নানা জায়গায় নাকা চেকিং করা হবে। দোলের দিন নবদ্বীপে এবছর অনেক বেশি পর্যটক আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সেখানে আমাদের বাড়তি নজর রয়েছে। এছাড়াও প্রতি থানা এলাকায় অতিরিক্ত কনস্টেবল পাঠানো হয়েছে। যাতে অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’
দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়েই খুশির আবহ। অনেক জায়গাতেই বুধবারই রঙ খেলায় মেতে উঠতে দেখা যায় জেলাবাসীকে। বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়রা সকলকে নিয়ে বসন্ত উৎসব পালন করে। জেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজেও ছাত্রছাত্রীদের নিজেদের মধ্যে আবির খেলায় মেতে ওঠে। আজ দোল পূর্ণিমার দিন পর্যটকদের ভিড়ও বেড়ে যায়। যার জেরেই নবদ্বীপ ও মায়াপুর এলাকায় বর্তমানে হোটেল পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। দোলের দিন নবদ্বীপ-মায়াপুরে ভিড় উপচে পড়ার আশঙ্কা করছে পুলিস মহল। সেইমতো একজন ডিএসপি সহ সাতজন ইন্সপেক্টর লেভেলের অফিসার আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকবেন।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত সাত দিনে কৃষ্ণনগর পুলিস জেলায় ট্রফিক আইন ভাঙার জন্য ১৮৫৩টি মামলা করা হয়েছে। যার মধ্যে অধিকাংশই বেপরোয়া গতিতে বাইক চালানো, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, হেলমেট ছাড়া বাইক চালানোর মতো মামলা বেশি। জানা গিয়েছে, গত বুধবার কৃষ্ণনগর পুলিস জেলাজুড়ে ৪০০টি মামলা রয়েছে। যার মধ্যে শুধু দুশোটা মামলা হয়েছে কৃষ্ণনগর শহর এলাকাতেই। এক পুলিস আধিকারিকের কথায়, ‘মদ্যপদের দাপাদাপি আটকানোই বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ দোলের দিন মদ্যপ অবস্থায় জোরে বাইক চালাতে দেখা যায়। তাদের জন্য বিভিন্ন জায়গায় নাকা চেকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।সেইমতো ইতিমধ্যেই জেলা পুলিসের তরফ থেকে বিভিন্ন থানার ওসি ও আইসিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।