Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মমতার ধমকে কাজ, অবৈধ বালি কারবারের বিরুদ্ধে সক্রিয় পুলিশ, মাত্র ৯ মাসে গ্রেফতার ৭২৭জন, আটক ১৫০৬টি গাড়ি

মুখ্যমন্ত্রীর ‘ধমকে’ সক্রিয়তা বাড়ছে পুলিশের। গতি পেয়েছে অবৈধ বালির বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান। মাত্র ৯ মাসে পুলিশি অভিযানে অবৈধ বালির গাড়ি ধরপাকড়ের যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তা বিগত দু’বছরের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি।

মমতার ধমকে কাজ, অবৈধ বালি কারবারের বিরুদ্ধে সক্রিয় পুলিশ, মাত্র ৯ মাসে গ্রেফতার ৭২৭জন, আটক ১৫০৬টি গাড়ি
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ ১৭:১০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: মুখ্যমন্ত্রীর ‘ধমকে’ সক্রিয়তা বাড়ছে পুলিশের। গতি পেয়েছে অবৈধ বালির বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান। মাত্র ৯ মাসে পুলিশি অভিযানে অবৈধ বালির গাড়ি ধরপাকড়ের যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তা বিগত দু’বছরের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি। যা স্পষ্ট হচ্ছে, কী পরিমাণ বালি লুট হয়েছে এতদিন। যে মহম্মদবাজার থানা অবৈধ বালির বিরুদ্ধে একসময় কালেভদ্রে অভিযানে বের হতো, নতুন আইসি যোগ দেওয়ার পর সেই থানাই এখন বালির গাড়ি পাকড়াওয়ে জেলার শীর্ষে। অনেকে অবশ্য বলছেন, শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর ধমক নয়, এর পিছনে রয়েছে জেলার পুলিশ সুপার আমনদীপের ‘ক্যারিশমাও’। বৃহস্পতিবার রাতেও মহম্মদবাজারের বিভিন্ন ঘাটে ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি চালাতে দেখা গিয়েছে পুলিশ সুপারকে। সঙ্গে ছিলেন আইসি প্রসেনজিৎ ঘোষও। 

Advertisement

বীরভূমের পুলিশ সুপার আমনদীপ বলেন, বালির বিরুদ্ধে অভিযান বহুগুণ বেড়েছে। ব্লক লেভেল নজরদারি টিমকে আরও বেশি সক্রিয় করা হয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন থানা এলাকায় হানা, তল্লাশি চলছে। অবৈধ কারবারে কোনওরকম রেয়াত করা হবে না। 
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বালির গাড়ি থেকে তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছিল মহম্মদবাজার থানার দুই অফিসারের বিরুদ্ধে। ঘটনায় অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব- ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার দুই অফিসারকে সাসপেন্ডও করেন জেলার পুলিশ সুপার। এই পরিস্থিতিতে অবৈধ বালি পাচারের বিরুদ্ধে পুলিশি ‘সক্রিয়তার’ যে পরিসংখ্যান সামনে এনেছে বীরভূম জেলা পুলিশ তা অত্যন্ত ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। 
জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২৩ সালে বীরভূম জেলায় বেআইনি বালির কারবার নিয়ে মোট ২৪৫টি মামলা রুজু হয়েছে। মোট ৪৪৩টি বালি বোঝাই ট্রাক, লরি, ডাম্পার আটক করেছিল পুলিশ। ২৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একই তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে বেআইনি বালির বিরুদ্ধে ৩৫৭টি মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। ৬৬৬টি বালি বোঝাই গাড়ি আটক করা হয়েছিল। ২২৯জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের প্রথম ন’মাসে সেই সংখ্যা কয়েকগুণ ছাড়িয়েছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বলছে, পুলিশ এখনও পর্যন্ত অবৈধ বালি কারবারের বিরুদ্ধে ৯২৮টি মামলা রুজু করেছে। অবৈধ বালি কারবারে যুক্ত ৭২৭জনকে গ্রেফতার ও ১৫০৬টি গাড়ি আটক করেছে।
অবৈধ বালির বিরুদ্ধে মহম্মদবাজার থানা ২০২৩ সালে যেখানে মাত্র একটি ও ২০২৪ সালে ১৮টি বালির গাড়ি পাকড়াও করেছিল, সেখানে এবছর এখনও পর্যন্ত ২৩৭টি গাড়ি পাকড়াও করেছে। যা জেলার থানাগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ। পুলিশমহলের একাংশের দাবি, সেই কারণেই অবৈধ বালির কারবারিদের একাংশের টার্গেট হচ্ছে মহম্মদবাজার থানা। কালীমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশকে। একইভাবে সিউড়ি, দুবরাজপুর, রামপুরহাট থানাতেও বালির বিরুদ্ধে অভিযান বেড়েছে। 
যদিও বিরোধীদের অবশ্য প্রশ্ন, বালি কারবারে যুক্ত ক’জন রাঘব বোয়াল গ্রেপ্তার হয়েছে? খোঁজ নিয়ে দেখলে দেখা যাবে, ধৃতদের মধ্যে অধিকাংশই গাড়ির চালক কিংবা খালাসি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ