Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চড়িয়ালের জলে বিষ, রাসায়নিক-বর্জ্য সহ নিকাশির জল মিশছে গঙ্গায়, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য

চড়িয়াল খালের জলে বিষ। বিভিন্ন কল-কারখানার বর্জ্য, রাসায়নিকের পাশাপাশি বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চল ও বেশ কিছু শহর এলাকার নিকাশি জল সরাসরি এসে পড়ছে এই খালে

চড়িয়ালের জলে বিষ, রাসায়নিক-বর্জ্য সহ নিকাশির জল মিশছে গঙ্গায়, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বজবজ: চড়িয়াল খালের জলে বিষ। বিভিন্ন কল-কারখানার বর্জ্য, রাসায়নিকের পাশাপাশি বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চল ও বেশ কিছু শহর এলাকার নিকাশি জল সরাসরি এসে পড়ছে এই খালে। না আছে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, না আছে পুরসভা ও পঞ্চায়েতগুলির সদিচ্ছা। ফলে দূষিত জল তির তির করে বয়ে যায় খাল দিয়ে, আর তা গিয়ে পড়ে গঙ্গায়। চড়িয়াল শুধু যে গঙ্গাকে দূষিত করছে তাই নয়, খালের দু’ধারের জীব-বৈচিত্র্যকেও ভেঙে খান খান করে দিচ্ছে। খালে আগে মিলত চিংড়ির মীন, পুঁটি, চাঁদা, মৌরলা। মৎস্যজীবীরা নৌকায় করে গিয়ে জাল ফেলতেন তখন, কেজি কেজি মাছ উঠতো, এখন সেসব অতীত। জল বিষিয়ে যাওয়ায় মাছের ঝাঁক আর এমুখো হয় না। উল্টে নানা ধরনের পোকা-মাকড়, ইঁদুর, বেজি, সাপের বসবাসের জায়গা বিপন্ন হয়ে পড়ছে। খালের জলে সিক্ত মাটি উর্বরতা হারিয়ে আম্লিক হয়ে গিয়েছে। যেকারণে সবুজ উদ্ভিদের উপরেও তার প্রভাব পড়ছে। পরিবেশকর্মী সুজয় দাস বলেন, চড়িয়াল খাল বেহালা, ঠাকুরপুকুর, ঠাকুরপুকুর-মহেশতলা ব্লক, মহেশতলা পুরসভা, বজবজ পুরসভা এবং বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা দিয়ে বয়ে এসে বজবজ থানাকে পাশ কাটিয়ে গঙ্গায় গিয়ে মিশেছে। কারখানার যত বর্জ্য, ক্ষতিকারক রাসায়নিক, নোংরা জল— সবই এই খাল দিয়ে বয়ে যায়। একমাত্র কলকাতা পুরসভা এলাকায় থাকা বেহালা ও ঠাকুরপুকুরের নিকাশির জল জোকার কাছে ট্রিটমেন্ট প্লান্টে শোধনের পর তা খালে গিয়ে পড়ে। টিএম ব্লক, চট্টা এবং মহেশতলা বা বজবজ পুর এলাকায় কোথাও নিকাশি জল পরিশোধনের কোনও ব্যবস্থা নেই। মহেশতলা পুরসভার চট্টা সহ সংলগ্ন এলাকায় জিনসের জামা-কাপড় রং করার একগুচ্ছ কারখানা রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন রাসায়নিক মিশ্রিত জল বর্জ্য আকারে এই খালে ফেলা হয়। খাল ও গঙ্গায় দূষণ আটকাতে গণ কনভেনশনের ডাক দেওয়া হয়েছে। পরিবেশবিদ সুজীব কর বলেন, ওই জায়গা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা আমরা স্বচক্ষে দেখে এসেছি। বাস্তুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এই খালের জল ব্যবহারের ফলে অনেকেই চর্ম ও জলবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। অবিলম্বে এ ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি।

Advertisement

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বিষয়টি পুরসভাগুলির দেখা উচিত। বজবজ পুরসভার চেয়ারম্যান গৌতম দাশগুপ্ত বলেন, এই ধরনের ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরি করতে হলে প্রচুর টাকা প্রয়োজন। এত টাকা পুরসভার হাতে নেই। এই কাজ একমাত্র রাজ্য সরকারই করতে পারে। মহেশতলা পুরসভার চেয়ারম্যান দুলাল দাস বলেন, পরিশোধন না করে ওই জল সত্যিই গঙ্গায় ফেলা উচিত নয়। কিন্তু বিষয়টি আমাদের হাতে নেই।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ