জয়পুর: বারান্দায় মাদুরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বসে মণীষা। এক কোণে অক্সিজেন সিলিন্ডারের স্তূপ। মাত্র ৩২ বছর বয়সেই স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য স্বামী মনজিতের ভরসা ছিল এই সিলিন্ডার। সেগুলির দিকে তাকিয়ে চোখের জল মুছছিলেন মনীষা। রাজস্থানের সিকরের স্যালোদ্রা গ্রামের এই চিত্র কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সম্প্রতি আরাবল্লি পর্বতমালা সংলগ্ন রাজস্থানের গ্রামগুলিতে এটাই চেনা ছবি। বাতাসে বিষ। আরাবল্লিতে খননের জেরে দূষিত ধূলিকণায় ভরে উঠছে বাতাস। নিশ্বাসের সঙ্গে তা হানা দিচ্ছে ফুসফুসে। পরে সিলিকোসিস নামে এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হচ্ছে একের পর এক মানুষের। হাঁপানি, শ্বাসকষ্টে ভুগতে ভুগতে একসময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন খননের কাজে যুক্ত শ্রমিক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই। গত কয়েকবছরে শুধু স্যালোদ্রা গ্রামেই ৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় পাথর ভাঙার (স্টোন ক্রাশিং) ইউনিটের শ্রমিক ছিলেন মনজিত। তিন বছরের বেশি সময় ধরে সিলিকোসিসে ভুগছিলেন তিনি। অনেক চেষ্টা করেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। জানা গিয়েছে, ব্যাপক খননের জেরে (স্টোন ড্রিলিং, ব্লাস্টিং, ক্রাশিং) বাতাসে মিশছে সিলিকা নামের এক যৌগ। শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে তা শরীরে ঢুকছে। পরে ফুসফুস শেষ করে দিচ্ছে। এনিয়ে সরব গ্রামের মানুষজন। অবিলম্বে খননকাজ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। স্থানীয়দের বক্তব্য, প্রশাসনের কোনো নজর নেই। এমনকী সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত প্যানেলও এই সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে আসেনি।
উল্লেখ্য, রাজস্থান সরকারের অনলাইন পোর্টালে সিলিকোসিস রোগীদের তথ্য যাচাই করে ২০২৩ সালে একটি সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। সেখানে দেখা যায়, রাজ্যে প্রায় ২৩ হাজার ৪৩৬ জন সিলিকোসিসে আক্রান্ত। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৮৭৬ জনের। বর্তমানে সংখ্যাটা ক্রমবর্ধমান। যা রীতিমতো চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।