Bartaman Logo
৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পকসো মামলা: কিশোরীকে নিয়ে চম্পট দিল জামিনে থাকা অভিযুক্ত, জারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

কলকাতায় পকসো মামলার জামিনে থাকা অভিযুক্ত পালিয়ে গেল। আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। বিস্তারিত জানুন।

পকসো মামলা: কিশোরীকে নিয়ে চম্পট দিল জামিনে থাকা অভিযুক্ত, জারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
  • ৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

সুকান্ত বসু, কলকাতা: নাবালিকা ধর্ষণ মামলার বিচার চলাকালীন ১৭ বছরের ওই কিশোরীকে নিয়ে চম্পট দিল জামিনে থাকা অভিযুক্ত। বৃহস্পতিবার এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা বিচারকের নজরে আসার পরই অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। বৃহস্পতিবার কলকাতার বিচারভবনের বিশেষ পকসো আদালতের বিচারক পাপিয়া দাস ওই নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনায় এজলাসে শোরগোল পড়ে যায়। মামলার বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি সৈকত পান্ডে বলেন, ‘মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণপর্ব প্রায় শেষের মুখে ছিল। তারই মধ্যে খোদ অভিযুক্ত চম্পট দেওয়ায় শুনানি বন্ধ হয়ে যায়। যতক্ষণ না পর্যন্ত তাঁকে পাকড়াও করা হয়, ততক্ষণ নতুন করে শুনানি শুরু করা সম্ভব নয়।’ এদিন এই মামলায় একজন সাক্ষী আদালতে এলেও তিনি ফিরে যেতে বাধ্য হন। আইনজীবী মহলেও বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়। প্রবীণ আইনজীবীদের কথায়, ‘এমন ঘটনা এই আদালতে সত্যিই নজিরবিহীন।’

Advertisement

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে কলকাতার নিউ মার্কেট থানা এলাকায় অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে পকসো মামলাটি দায়ের করা হয়। অভিযোগ ছিল, ওই যুবক ১৬ বছরের কিশোরীকে অপহরণ করে তাকে ধর্ষণ করেছে। পকসো ধারায় মামলা দায়ের হওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে বিহার থেকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষ করে বিচারভবনের পকসো আদালতে চার্জশিট পেশ করা হয় অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে। চার্জ গঠন করে শুরু হয় মূল মামলার বিচার। তার আগে ওই কিশোরী ব্যাঙ্কশাল কোর্টের এক বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের (জেএম) কাছে গোপন জবানবন্দি দেয়। তার মেডিকো লিগ্যালও করা হয়। অভিযুক্ত যুবকের মেডিকেল পরীক্ষা হয়। মামলার মাঝেই অভিযুক্ত আদালত থেকে জামিন পায়। এদিন ছিল এই মামলার সাক্ষ্যদানপর্ব। সেই মতো নির্দিষ্ট সময়ে ওঠে মামলাটি। একজন চিকিৎসক আসেন আদালতে সাক্ষী দিতে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর দেখা যায়, অভিযুক্ত গরহাজির। বিচারক জানতে চান, অভিযুক্ত কোথায়? তখনই অভিযুক্তপক্ষের লোকজনের মাধ্যমে বিচারক পুরো বিষয়টি জানতে পারেন। তখনই মামলা মুলতবি হয়ে যায়। সরকারি আইনজীবী বলেন, ‘আমরা সরকারপক্ষ থেকে অভিযুক্তের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন জানাচ্ছি।’ এরপরই বিচারক ওই আরজিতে ‘সিলমোহর’ দেন। পাশাপাশি ওই পরোয়ানা কার্যকর করার জন্য পুলিশকে  প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।

সম্পর্কিত সংবাদ