নয়াদিল্লি: মন্ত্রী আছেন, তাঁর জন্য দপ্তরও বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই দপ্তরের কোনও অস্তিত্বই নেই। এক-দু’দিন নয়, দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে এমনই ‘অস্তিত্বহীন’ দপ্তরের দায়িত্ব সামলে চলেছিলেন পাঞ্জাবের মন্ত্রী কুলদীপ সিং ঢালিওয়াল। সম্প্রতি জানা যায়, তিনি যে দপ্তরের মন্ত্রী, সেই দপ্তর কোনওদিন তৈরিই হয়নি। বিষটি জানাজানি হতেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে পাঞ্জাবের আম আদমি সরকার। দপ্তর তৈরি না করেই ঢালিওয়ালকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে আপ সরকার। সমস্যা মেটাতে তড়িঘড়ি নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে, আপাতত ঢালিওয়াল একটি দপ্তরের দায়িত্বই সামলাবেন। কিন্তু এতদিন ধরে দপ্তর তৈরি না হওয়ার বিষয়টি কেন কারও নজরে এল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।
Advertisement
পাঞ্জাবে আপ ক্ষমতায় আসার পর ঢালিওয়াল প্রথমে কৃষি ও কৃষক উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু ২০২৩ সালের মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান মন্ত্রিসভায় রদবদল করেন। সেই সময় ঢালিওয়ালকে প্রবাসী ভারতীয় সংক্রান্ত এবং প্রশাসনিক সংস্কার-এই দুটি দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরটি কোনওদিনই তৈরিই হয়নি। এর মাঝে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরেও ফের একবার মন্ত্রিসভার রদবদল করেন ভগবন্ত। সেই সময়ও ঢালিওয়ালকে ওই দুই দপ্তরের দায়িত্বেই রেখে দেওয়া হয়। তখনও দপ্তর তৈরি না হওয়ার বিষয়টি কারও নজরে আসেনি। সম্প্রতি আমেরিকা থেকে অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীদের নিয়ে বিমান অমৃতসরে নামা নিয়ে চর্চায় আসেন আসেন ঢালিওয়াল। সেই সময়ই ঢালিওয়ালের অস্তিত্বহীন দপ্তরের বিষয়টি জানা যায় বলে মনে করা হচ্ছে। পাঞ্জাব সরকারের গেজেট নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরটির কোনও অস্তিত্ব নেই। ঢালিওয়াল এখন থেকে শুধু প্রবাসী ভারতীয় সংক্রান্ত দপ্তরের মন্ত্রিত্বই সামলাবেন।
পাঞ্জাব বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডার বলেছেন, ‘আপের একজন মন্ত্রী ২০ মাস ধরে একটি দপ্তর চালালেন, যার কোনও অস্তিত্ব নেই। ভেবে দেখুন, ২০ মাস ধরে মুখ্যমন্ত্রীও জানতে না যে তাঁর একজন মন্ত্রী অস্তিত্বহীন দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন। সরকার চালানোকে রসিকতা বানিয়ে ফেলেছে আপ।’
পাঞ্জাব বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডার বলেছেন, ‘আপের একজন মন্ত্রী ২০ মাস ধরে একটি দপ্তর চালালেন, যার কোনও অস্তিত্ব নেই। ভেবে দেখুন, ২০ মাস ধরে মুখ্যমন্ত্রীও জানতে না যে তাঁর একজন মন্ত্রী অস্তিত্বহীন দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন। সরকার চালানোকে রসিকতা বানিয়ে ফেলেছে আপ।’



