সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: জনগণ যদি এই বিডিওকে ধরে জুতো পেটা করেন আগামী দিন ঠেকাতে পারব না। এরা মনে হয় এর জন্য অপেক্ষা করছেন— সোমবার টুঙ্গি ভাজনঘাট পঞ্চায়েতের উপসমিতির সদস্য নির্বাচন স্থগিত হলে ক্ষুব্ধ রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ জগন্নাথ সরকার কৃষ্ণগঞ্জ বিডিওর উদ্দেশ্যে এই সুরে হুমকি দেন। প্রসঙ্গত, সোমবার টুঙ্গি ভাজনঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের উপসমিতির সদস্য নির্বাচন ছিল। জানা গিয়েছে, ১৮ আসন বিশিষ্ট ভাজনঘাট পঞ্চায়েতে তৃণমূল কংগ্রেস ৬ ও বিজেপির ১২ জন সদস্য আছে। এই এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের ১ জন ও বিজেপির ২ জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য রয়েছে। এদিন বিডিও সৌগতকুমার সাহা নোটিস দিয়ে এই উপসমিতির সদস্য নির্বাচন স্থগিত করেন। তাতেই ক্ষুব্ধ হন বিজেপির কর্তারা। খবর পেয়ে সাংসদ জগন্নাথ সরকার কৃষ্ণগঞ্জ বিডিও অফিসে ছুটে আসেন। বিডিওকে দেখতে না পেয়ে আরও ক্ষুব্ধ হন। ক্ষোভে ফেটে পড়ে তিনি বলেন, ‹আমি ফোনে তাঁকে থাকার কথা বললেও তিনি অপেক্ষা করেননি। এরা তৃণমূলের দালাল। ঘুষ দিয়ে পাশ করা বিডিও। চোরেরা পালিয়ে বেড়ায়। এই বিডিও পালিয়ে বেরাচ্ছেন। দেখি ওর কত আইন আছে। আমিও শেষ দেখে ছাড়ব। আগামী দিন এইসব বিডিওকে জনতা রাস্তায় পেটালেও ঠেকাতে পারব না। জনগণ যদি এই বিডিওকে ধরে জুতোপেটা করেন আগামী দিন ঠেকাতে পারব না। এরা মনে হয় এর জন্য অপেক্ষা করছেন। উত্তেজিত জগন্নাথবাবু আরও বলেন, ‘নোংরামি করছে সরকারি পয়সায়। সব কিছুর সীমা আছে। দেখে নেব বিডিওকে। কতদূর দৌড়তে পারে। বিডিওরা চোর, উনি প্রমাণ করলেন। নোটিস জারি করে উনি যে চোর সে জন্য পালিয়ে গেলেন। পালিয়ে যাবেন কোন ঠিকানায়, ওর বাবার ঠিকানা তো আছে। খুঁজে বের করব। প্রধানকে সমর্থন করে উপসমিতি অপরিবর্তিত রেখে সদস্যরা স্বাক্ষর করেছে। তার রিসিভড কপি সেক্রেটারির কাছে ও বিডিও অফিসে আমরা জমা দিয়েছি।’ এ নিয়ে বিডিও সৌগতকুমার সাহা বলেন, ‘উনি যে ভাষায় কথা বলেন সেটা ওঁর রুচি। তবে একজন সাংসদ কেন এই উপসমিতি সদস্য নির্বাচনে আসবেন? তাঁকে তো ডাকা হয়নি।› সৌগতকুমার সাহা আরও বলেন, ‹উপসমিতির সদস্য নির্বাচনের যিনি প্রিসাইডিং অফিসার তাঁর সমস্যার জন্য এদিন স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। যে কোনও একদিন করে দেওয়া হবে। বিষয়টি চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরও সাংসদ এ ধরনের কথা বলছেন।’



