Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পঞ্চায়েত সমিতির টাকায় ৫ বছরে কোনও কাজই হয়নি, ক্ষোভ প্রকাশ আদিবাসীদের

পঞ্চায়েত সমিতির টাকায় ৫ বছরে কোনও কাজই হয়নি, ক্ষোভ প্রকাশ আদিবাসীদের
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: জেলার সবচেয়ে বড় ব্লক কাশীপুর। সেই কাশীপুর ব্লকের শেষ সীমান্ত আদিবাসী অধ্যুষিত কালিদহ গ্রাম পঞ্চায়েত। সেই পঞ্চায়েতে গত পাঁচ বছরে পঞ্চায়েত সমিতির অর্থে একটিও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পঞ্চায়েত সমিতির অর্থে গত পাঁচ বছরে এক টাকারও কাজ না হওয়ায় এলাকার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তৃণমূল নেতৃত্ব বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকলেও ঘটনা ঘিরে পঞ্চায়েত এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
Advertisement
কাশীপুর ব্লকের বিডিও সুপ্রিম দাস বলেন, পঞ্চায়েত সমিতির কাজের বিষয়টি জানা নেই। কারণ সমিতির কোথায় কী কাজ করা হবে, সেই বিষয়টি পঞ্চায়েত এলাকা থেকে উঠে আসে। আগামী দিনে অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে সমিতির বৈঠকে আলোচনা করা হবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় প্রতিটি পঞ্চায়েত এলাকায় তিনটি স্তরে কাজ করা হয়। গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের টাকায় প্রতিটি পঞ্চায়েতে রাস্তা, পানীয় জল, শ্মশানঘাট, সীমানা প্রাচীর, পুকুর তৈরির মতো উন্নয়নের কাজ করা হয়। পঞ্চায়েতগুলিতে বেশি টাকা বরাদ্দ না থাকায় তাদের তরফে ছোট, ছোট কাজ করা হয়। পঞ্চায়েত সমিতি ছোট, মাঝারি, বড় সমস্ত মাপের কাজ করতে পারে। এবং জেলা পরিষদ বড় অর্থের স্কিমের কাজ করে। সেক্ষেত্রে কালীদহ গ্রাম পঞ্চায়েত‌ এলাকায় পঞ্চায়েত এবং জেলা পরিষদ থেকে কাজ হলেও পঞ্চায়েত সমিতি কাজের জন্য এক টাকাও অর্থ বরাদ্দ করেনি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আগে পঞ্চায়েত সমিতি থেকে প্রচুর টাকার কাজ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে পাঁচ বছরে সমিতি পঞ্চায়েত এলাকায় এক টাকারও কাজ করেনি। জেলার এমন কোনও পঞ্চায়েত নেই, যেখানে ৫ বছরে সমিতির অর্থে দুই থেকে পাঁচটি কাজ হয়নি। শুধুমাত্র কালিদহ ব্যতিক্রম পঞ্চায়েত। পঞ্চায়েত এলাকায় একাধিক সমস্যা রয়েছে। পঞ্চায়েত এলাকার দুটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচীর নেই। মনঝুপড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নেই, গাছতলায় চলে পঠন‌পাঠন। এলাকায় কোথাও শ্মশানঘাট, চুল্লি গড়ে ওঠেনি। একাধিক গ্রামে পানীয় জলের সমস্যা আছে। রয়েছে রাস্তাঘাটের সমস্যা।
যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এলাকায় পঞ্চায়েত সমিতি থেকে কাজ না করা হলেও পঞ্চায়েত ও জেলা পরিষদের অর্থে প্রচুর কাজ হয়েছে। কাশীপুর জেলার সবচেয়ে বড় ব্লক। ফলে পঞ্চায়েত সমিতিতে যে পরিমাণ টাকা বরাদ্দ হয়, সেই টাকায় ১৩টি পঞ্চায়েত এলাকার কাজ করা সম্ভব হয় না। কালিদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান লক্ষ্মীনারায়ণ মান্ডি বলেন, এবছর পঞ্চায়েত ২৩ লক্ষ টাকা পেয়েছিল। সেই টাকায় রাস্তাঘাট, পানীয় জল, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনের সংস্কারের মতো কাজ করা হয়েছে।
কাশীপুর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদা বলেন, কালিদহ আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা বলে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। সাধারণত পঞ্চায়েতগুলিতে ত্রিস্তর ভাবে অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে উন্নয়নের কাজ করা হয়। এলাকায় সাঁওতাল মাধ্যমের লহাট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিধায়ক তহবিল থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা খরচ করে সোলার সুউচ্চ লাইট দেওয়া হয়েছে।
পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, পঞ্চায়েত এলাকায় সমিতির টাকা খরচ করে কোনও কাজ করা হয়েছে কি না, জানা নেই। তবে ওই পঞ্চায়েত এলাকায় জেলা পরিষদের অর্থে দু’টি বড় রাস্তার কাজ করা হয়েছে। সাঁতুড়ি থানার লেদাসন থেকে ইন্দ্রবিল পর্যন্ত প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ করে পিচ রাস্তা এবং রামপুর গ্রামে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা খরচ করে ঢালাই রাস্তার কাজ করা হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ