Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পঞ্চায়েতে শিশুবান্ধব পরিবেশ গড়তে প্রশাসনের দ্বারস্থ কান্দির কয়েকজন ছাত্রী  

পঞ্চায়েতে শিশুবান্ধব পরিবেশ গড়তে প্রশাসনের দ্বারস্থ কান্দির কয়েকজন ছাত্রী
 
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কান্দি: পঞ্চায়েতে শিশুদের কোলে নিয়ে কাজ সারতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন মায়েরা। ফলে পঞ্চায়েতে শিশু বান্ধব পরিবেশ থাকা দরকার। আবার প্রতিটি বাড়িতে পুষ্টিকর বাগান থাকা উচিত, যাতে নিজেদের বাড়িতেই শাকসব্জির উৎপাদন করা যায়। এমন দাবি নিয়ে প্রায় তিন মাস ধরে প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরছেন কান্দি মহকুমার কিছু স্কুল ছাত্রী। সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই ওরা এই কাজে ব্রতী হয়েছে বলে জানিয়েছে। বুধবার ওই ছাত্রীদের দাবি মেনে নিয়ে কান্দি ব্লক প্রশাসন আগামী বার্ষিক অ্যাকশন প্ল্যানে দাবি দু’টিকে রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি দিল।
Advertisement
বড়ঞার মান্দ্রা গ্রামের রিমি হাজরা ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশুনো করে। কান্দির মারুরা গ্রামের পায়েল মণ্ডল কিংবা ওই গ্রামের অনিন্দিতা মণ্ডল সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। প্রত্যেকেই প্রায় গত তিনমাস ধরে বিভিন্ন ব্লকের বিভিন্ন পঞ্চায়েতে ঘুরে ঘুরে এই প্রচার করছে বলে জানিয়েছে। কয়েকটি পঞ্চায়েত তাদের দাবি মেনে নিয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। সেইমতো এদিন প্রায় আটজন বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রী কান্দি ব্লকে আসে। প্রথমেই তারা কান্দির বিডিও শ্রীকুমার ভট্টাচার্যর সঙ্গে দেখা করে দাবি তুলে ধরে। পরে কান্দি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পার্থপ্রতিম সরকারের সঙ্গেও দেখা করে। বিডিও বলেন, সমাজ উপযোগী খুব প্রয়োজনীয় দাবি করেছে ওই ছাত্রীরা। তবে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বলেন, বিডিও সাহেবের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করা হয়েছে, ছাত্রীদের দাবিগুলি আগামী বার্ষিক অ্যাকশন প্ল্যানে তুলে ধরা হবে। ছাত্রীদের সমাজ সচেতনতার এই প্রয়াস বিফলে যাবে না। প্রতিটি পঞ্চায়েতে শিশু বান্ধব পরিবেশ তুলে ধরার পাশাপাশি প্রতিটি বাড়িতে পুষ্টিকর বাগান তৈরির জন্য পঞ্চায়েত সমিতি প্রচার চালাবে। 
ওই ছাত্রীদের মধ্যে একাদশ শ্রেণির ছাত্রী শ্রাবণী মণ্ডল জানায়, এখন বেশিরভাগ পঞ্চায়েতে কাজকর্ম সারতে মহিলারা গিয়ে থাকেন। অনেককে কোলে বাচ্চা নিয়েও যেতে হয়। সেক্ষেত্রে তাঁরা সমস্যায় পড়েন। তাই প্রতিটি পঞ্চায়েতে যদি শিশুদের সামলানোর জন্য কোন অতিরিক্ত ঘর ও সাহায্যকারীর ব্যবস্থা থাকে, তাহলে অনেকে উপকৃত হবেন। সরকারি প্রকল্পে এটা থাকলেও বাস্তবে অনেক পঞ্চায়েতে সেই ব্যবস্থা নেই। সেটাই এদিন দাবি করা হয়েছে। অপর ছাত্রী পায়েল মণ্ডল জানিয়েছে, প্রতিটি বাড়িতেই কিছুটা ফাঁকা জায়গা পড়ে থাকে। সেটিকে ফেলে না রেখে যদি কিছুটা পরিমাণ পুষ্টিকর শাকসব্জির বাগান করা যায়, তাহলে শুধু ওই পরিবার নয়, সমাজও উপকৃত হবে। এই দাবি নিয়ে আমরা প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছি।
এদিকে ওই ছাত্রীদের গাইড করে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যান কয়েকজন। তেমনই এদিনের গাইড অরূপ মুখোপাধ্যায় বলেন, সমাজে ভালো কাজ করছে এই ছাত্রীরা। তাই অভিভাবক হিসেবে এদের সঙ্গে থাকি।
সম্পর্কিত সংবাদ