Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামীর নাম বাংলার বাড়ির তালিকায়, বিতর্ক

পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামীর নাম বাংলার বাড়ির তালিকায়, বিতর্ক
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কালিয়াচক: যোগ্যরা বঞ্চিত। অথচ জ্বলজ্বল করছে অযোগ্যদের নাম। এবার বাংলার বাড়ির তালিকায় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামীর নাম দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বাসিন্দারা। তাঁর পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তালিকায় নাম ঢুকল, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। বাসিন্দাদের অনেকে প্রভাব খাটানোর সম্ভাবনা নিয়েও চর্চা করছেন। তাছাড়া ওই বাড়ির একজনের আবার রেশনের ডিলারশিপ রয়েছে। এই অব্যবস্থায় ক্ষুব্ধ হয়ে ব্লক অফিসে অভিযোগ দায়ের করলেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি কালিয়াচক-৩ ব্লকের পাড়দেওনাপুর-শোভাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে খবর, এই পঞ্চায়েত এলাকায় বহু পরিবার হতদরিদ্র। বেশিরভাগ পরিবার কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। অনেকের চাষের জমিও নেই। অন্যের জমি লিজে নিয়ে চাষ করেন অনেকে। তাঁদের মধ্যে অনেকের আংশিক পাকা বাড়ি রয়েছে। আবার অনেকে টিন ও বাঁশের বেড়া দিয়ে বাড়ি করে দিন কাটাচ্ছেন। এই হতদরিদ্র পরিবারগুলির অনেকের নাম নেই আবাসের তালিকায়। অথচ তালিকায় জ্বলজ্বল করছে পঞ্চায়েত সদস্য আর্জিনা খাতুনের স্বামী টিপু শেখের। বিষয়টি জানতে পেরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ওই এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, সদস্যর স্বামীর পাকা বাড়ি রয়েছে। এছাড়াও তাঁর বাড়িতে একজনের নামে রেশনের ডিলারশিপ।
ওই এলাকার বাসিন্দা আলিউল শেখের বক্তব্য, টিপুর পরিবার যথেষ্ট সচ্ছ্বল। তাঁর স্ত্রী গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। এছাড়াও তাঁর নিজের পাকা বাড়িও রয়েছে। কিন্তু অন্য একটি বাড়ি দেখিয়ে নিজের নাম আবাসের তালিকায় টিকিয়ে রেখেছেন। এটা মেনে নেওয়া যায় না। আলিউলের অভিযোগ, এলাকার অনেকের পাকা বাড়ি নেই। অথচ গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামীর নাম আবাসের তালিকায়। আমরা চাই হতদরিদ্র এবং যোগ্যদের নাম তালিকায় থাকুক। আমরা ইতিমধ্যেই ব্লক প্রশাসনের কাছে এনিয়ে অভিযোগ জানিয়েছি।
আবাসের তালিকায় নাম থাকার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন টিপু শেখ। তাঁর কথায়, ২০১৬-১৭ সালের সার্ভে অনুযায়ী তালিকায় আমার নাম এসেছে। তখন আমার বাড়ির কেউ গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ছিল না। ২০২৩ সালে আমার স্ত্রী আর্জিনা খাতুন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। রেশনের ডিলারশিপ কাকার নামে রয়েছে। আমি ওই দোকানে শুধুমাত্র কাজ করি।
গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মুর্শিদা খাতুন জানিয়েছেন, ঘরের তালিকায় টিপু শেখের নাম থাকার বিষয়টি শুনেছি। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ হয়েছে কিনা জানি না। কালিয়াচক-৩ এর বিডিও সুকান্ত শিকদার বলেন, অভিযোগ হয়েছে। তার ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ